Banner Top

দূর্নীতির অভিযোগে উত্তাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ

                                               দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে দূর্নীতির ঘটনা ক্ষমশই প্রকাশিত হচ্ছে। আরজি করে চিকিৎসক হত্যাকান্ডের জেরে বঙ্গ তথা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ অব্যাহত। এরই মাঝে অভিক দে-র বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। অন্যায়ভাবে এক ছাত্রনেতার নম্বর বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিবাদে গর্জে ওঠে হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। নম্বর বদল এমনকি চিকিৎসকদের বদলি থেকে শুরু করে নানান ধরনের হুমকির কথাও প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে অভিক দে-র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরব হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের জুনিয়ার চিকিৎসকেরা। ডিপার্টমেন্টাল হেডরাও সেই বিক্ষোভে সামিল হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ এক ছাত্রনেতার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এইচওডি-র কথায়, ওই ছাত্রনেতা ৫২ থেকে ৫৩ নম্বর পেলেও মার্কশিটের নম্বর ছিল ৮০। কার্যত এই অভিযোগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ চত্বর। দফায় দফায় চলে ছাত্র-ছাত্রীসহ অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ চলাকালীন কলেজের ডিন ও প্রিন্সিপালকে ঘিরে ধরে এবং ছাত্রনেতার নম্বর বাড়ানোর পেছনে যুক্ত ব্যাক্তির নাম প্রকাশ্যে আনার দাবি জানায়। শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের চাপে পড়ে ডিন অফ স্টুডেন্টস জানান, পরীক্ষা চলাকালীন একএক সময় অভিক দে-র ফোন আসত। অভিক ছাড়া কেউ ফোন করতো না। বারবার ফোন আসলে, বিরক্ত হয়ে তিনি বেরিয়ে যেতেন। ডিন এও বলেন, প্রিন্সিপাল স্যারের কাছেও অভিকের ফোন আসতো। তিনি বলতেন, তুমি বেশিক্ষণ না থেকে চলে এসো। যদিও ফোনের বিষয়টা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে প্রিন্সিপাল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখানে ডিন এর কথায় উঠে আসা ‘অভিক দে’ আসলে আরজি কর-এ চিকিৎসক হত্যাকান্ডের ঘটনায় সেমিনার রুমের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে লাল জামা পড়া যুবক। যাকে লালবাজারের পক্ষ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেছিল। পরবর্তিতে জানা যায়, সে-ই ব্যাক্তিই অভিক দে, যে কিনা এস এস কে এম-এর সার্জারির পি.জি.টি ছিল। বিক্ষোভকারীদের কথায়, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দৌরাত্ম্য  বিপুল পরিমানে বেড়েছিল। গোটা হাসপাতাল, পরিচালনা থেকে শুরু করে বাকি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত শাসক দল। শাসকদলের প্রভাবশালীদের কথামতো কাজ হয় সেখানে। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করে আন্দোলনকারীরা। আরজি কর কান্ডের পর থেকে রাজ্যের সমস্ত মেডিকেল কলেজগুলিতেই ‘তৃণমূলের থ্রেট কালচার’ এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা কেন্দ্রে আতঙ্কে চুপ থাকা ব্যাক্তিরাও প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। আরজি কর-এর পর প্রকাশ্যে এসেছে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে লবির কু-প্রভাব। স্বভাবতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান, প্রিন্সিপাল, সুপার ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসক নেতাকে ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ডিন এবং সহকারী ডিনের পদত্যাগের দাবি তোলে বিক্ষোভকারীরা। সে মতাবস্থায় হাসপাতালের অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ সাহা একটি নির্দেশিকা জারি করেন। তাতে বলা হয়েছে, উঠে আসা অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের দ্বারস্থ-ও হবে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। অন্যদিকে, ডিন আদৌ দোষী কিনা, সে বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে তদন্ত কমিটি। কিন্তু ডিন এবং সহকারী ডিনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ছিল অনড়। সন্ধ্যা নাগাদ আচমকা ডিনের ঘরে ঢুকে পড়ে, ডিনের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয় প্রতিবাদীরা। এক প্রকার আন্দোলনকারীদের চাপেই এদিন পদত্যাগ করেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ডিন সন্দীপ সেনগুপ্ত ও সহকারী ডিন সুদীপ্ত শীল।
দূর্নীতির অভিযোগে উত্তাল উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ
User Review
89% (1 vote)
Banner Content
Dabadaha is a News Media House under the Brand of Dabadaha Live ( দাবদাহ লাইভ) via Website as WEB NEWS

0 Comments

Leave a Comment