অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা,উত্তর ২৪ পরগনাঃ আরজি কর-এ চিকিৎসক হত্যাকান্ডের জের, বিচারের দাবিতে রাজ্য তথা দেশ জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় অব্যাহত। নবান্ন অভিযানের দিন আহত হয়েছে বহু পুলিশ কর্মী ও প্রতিবাদী ব্যাক্তিরা। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের পাল্টা প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল পুলিশ ও আম জনতা। কিন্তু থমকে যায়নি ধর্ষকদের অপকর্মের পাশাপাশি কিছু অসাধু পুলিশ কর্মীর কর্মকান্ড। যার জেরে নবান্ন অভিযানের দিন থেকে শুরু করে নানান স্থানে নানানভাবে আক্রান্ত হয়ে চলেছে পুলিশ কর্মীরা। এমনই এক ঘটনা ধরা পড়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাসনাবাদ ব্লকের খরমপুর এলাকা থেকে। ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় ৯ জন পুলিশ কর্মী। ওই ঘটনায় ব্যপক উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খরমপুর এলাকাবাসী এক মহিলা হাসনাবাদ থানায় এলাকারই এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। শুক্রবার রাতে খরমপুর এলাকায় অভিযুক্তর বাড়িতে তদন্ত করতে গেলে অভিযুক্ত সহ তাঁর সঙ্গীরা পুলিশকে ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি এমনকি লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। ফলে মুরারি সাহা আউটপোস্টের ইনচার্জ সহ ৯ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়। ঘটনায় বসিরহাট জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই হাসনাবাদ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী খরমপুরের ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার ভোর চারটে নাগাদ দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে হাসনাবাদ থানার পক্ষ থেকে এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধর্ষন এমনকি পুলিশের কাজে বাঁধা প্রদান সহ পুলিশ কর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। কর্মরত পুলিশ কর্মীদের আঘাত করার ঘটনায় আর কে কে যুক্ত, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধর্ষণের তদন্ত করতে যাওয়া পুলিশ কর্মীদের উপর অতর্কিতে হামলা ও আহত করার ঘটনায় জড়িত ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে ওইরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, তার জন্য যথোপযুক্ত ব্যাবস্থাও গ্রহণ করা হবে বলে জানায় পুলিশ কতৃপক্ষ। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে বলে জানায় পুলিশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সহ ওয়াকিবহাল মহলের কথায়, খরমপুরের ঘটনা খুবই দূর্ভাগ্যজনক। রাজ্যবাসী এতে স্তম্ভিত। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বর্তমানে কোথায় পৌঁছেছে! নানান সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ যাদের দারস্থ হয়, সেই পুলিশ কর্মীরা আজ মানুষের রোষের শিকার। এমতাবস্থায় পুলিশের উচিত- রাজনৈতিক রঙ না দেখে, কোনও রাজনৈতিক দলের বশবর্তী হয়ে কাজ না করে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করা। একইসাথে ওই ঘটনায় যুক্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
অভিযোগের তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ
0%

















