
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বর্তমানে প্রতারকদের দৌড়াত্ম্য বেড়েই চলেছে। প্রতারকেরা নানান উপায় অবলম্বন করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। লোভের বশবর্তী হয়ে বা মনের অজান্তে তাদের পাতা ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হয়ে চলেছে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন ঘটনা প্রায়শই উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। এমনই এক প্রতারণামূলক ঘটনা তুলে ধরা হল। একটি সংস্থা মারফত আর্থিক প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল এক প্রতারক। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, যে বিপুল পরিমান অর্থিক প্রতারণার পর নিরাপদে থাকতে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছে সেই প্রতারক। কিন্তু শেষ রক্ষা তাঁর হয় না। শেষমেশ পুলিশের জালেই ধরা পড়ে সে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দমদম এয়ারপোর্ট থানা এলাকার ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এর ঘোলা এলাকার বাসিন্দা আনুমানিক ৪৫ বছরের মৃন্ময় পাল নামে এক ব্যাক্তি, ঘোলা এলাকায় এমিস্টার নামে এক সংস্থা চালাত। ওই সংস্থা মারফত একটি প্রতারণার ফাঁদ তৈরী করা হয়েছিল। বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষের সাথে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ স্থাপন করে অল্পসময়ে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ বৃদ্ধির প্রলোভন দেখাত সে। মৃন্ময়ের ছলনাময় মিষ্টি কথার প্রলোভনে পা দিয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বহু মানুষ। দীর্ঘদিন যাবত এভাবেই চলছিল। আচমকা ২০২১ সালে এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বাসিন্দা ‘স্বেতা দত্ত’ নামে একজন আইটি কর্মী এয়ারপোর্ট থানায় যায়। সেখানে ঘটনার বিবরন জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ঘোলা এলাকার এমিস্টার নামক একটি সংস্থার পক্ষ থেকে মৃণ্ময় পাল নামে এক ব্যাক্তি তাঁকে অর্থ জমানোর পরামর্শ দেয়। সে বলে, তাঁর সংস্থায় টাকা জমা করলে ৩ বছরে ওই টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। লোভ সম্বরণ করতে না পেরে মৃন্ময় এর প্রলোভনে পা বাড়ান তিনি। ২৪ লক্ষ টাকা সেখানে জমা করেন। কিন্তু ওই বিপুল অঙ্কের টাকা এমিস্টার নামক সংস্থায় জমা করার কিছুদিন পরেই মৃন্ময় পাল তাঁর সাথে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপরই ওই আইটি কর্মী প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে এয়ারপোর্ট থানার দারস্থ হন। আইটি কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নামে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। মৃন্ময় পালের অফিসে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সেখান থেকে সে অফিস বন্ধ করে অন্যত্র চলে গিয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হবার পর, সূত্র অনুযায়ী দিল্লির নয়ডা এলাকায় হানা দেয় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ। সেখানে নয়ডা পুলিশের সহযোগিতায় একটি অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মৃন্ময় পালকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশ এও জানায়, ধৃত মৃন্ময় চিটফান্ড সংস্থা খুলে একাধিক মানুষের থেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা করেছিল। এহেন কর্মকান্ডের জন্য ধৃত নিজ পরিবার থেকেও বিতারিত হয়েছে। ছক অনুযায়ী বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করার পর, নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে পরিত্যাগ করে সে। এরপর ধৃত পুনর্বিবাহ করে নয়ডায় প্রায় ২ বছর যাবত স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছিল। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে এয়ারপোর্ট থানার পক্ষ থেকে রবিবার ধৃতকে বিধাননগর আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। ধৃত কতদিন যাবত এহেন কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত, ওই প্রতারণামূলক কাজের সাথে যুক্ত হবার পিছনে রয়েছে কোন কারন, প্রতারিত করতে ওই সংস্থা ব্যতীত কখনো অন্য কোনো পথ অবলম্বন করেছে কিনা, তাঁর ওই কর্মকাণ্ডের সাথে আর কে বা কারা কিভাবে জড়িত, মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের সাথে অর্থিক প্রতারণা করা ছাড়াও, স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে পুনর্বিবাহে আবদ্ধ হওয়া- বিষয়টা কি বৈধ? উঠেছে এমনই নানান প্রশ্ন, ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। তদন্ত সাপেক্ষে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পাশাপাশি রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে জানায় এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ।

















