ঝাড়গ্রামের সাঁতাইবুড়ি মাঝিমোল্লার দেবী
দাবদাহ লাইভ, অক্ষয় গুছাইত, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের সুবর্ণরেখা নদীর উপর জঙ্গল কন্যা সেতুর পাশেই রয়েছে সাঁতাইবুড়ির থান বা মন্দির। মন্দির বলতে একটি পাথর এর চারিপাশে রয়েছে ইঁটের পাঁচিল। কোনও ছাঁদ বা আচ্ছাদন নেই। বেদীর ওপর একটি পাঁথর এবং মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়াকেই দেবী হিসাবে পূজা করা হয়। গ্রাম দেবী বা লৌকিক দেবী হিসেবে পরিচিত তিনি। সাঁতাই বুড়ির আবির্ভাব নিয়ে রয়েছে নানা কিংবদন্তী। লোককথা অনুযায়ী জানা যায় সাঁতাইবুড়ি আসলে সাঁতারেবুড়ি, যিনি নদীর করাল গ্রাস থেকে আর্তকে উদ্ধার করেন। দেবী এখানে গ্রামচন্ডী হিসাবেও মর্যাদা পেয়ে থাকেন। এলাকায় এই দেবীকে নিয়ে নানা রকম জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। বহুবছর আগে যখন সেতু ছিল না তখন মানুষ গরুর লেজ ধরে সাঁতরে নদীর ওপারে যেত চাষের কাজে কিংবা মাছ ধরতে। গরুর লেজ ধরে সাঁতরে নদী পেরোবার সময় স্মরণ নিতে হতো সাঁতাইবুড়ি দেবীর। তিনিই যেকোনও রকমের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতেন চাষি ও জেলেদের। জনশ্রুতি আছে – এক জেলে নদীতে মাছ ধরবার সময় তার জালে আসে একটি পাথর। পাথরের আচার-আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ায় সেই পাথরটিকে নদীর পাড়ে এনে পুজো করতে শুরু করেন ওই জেলে। সেখান থেকেই দেবীর আবির্ভাব। বিভিন্ন সময়ে লৌকিক দেবী সাঁতাইবুড়ির পুজার্চনা হলেও মকর সংক্রান্তির দিন বড় করে পূজা হয় দেবীর। আনন্দে মেতে ওঠেন নদী তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। তবে এখনও নদীতে নৌকা নিয়ে গেলে সকলেই স্মরণ করে যান দেবী সাঁতাইবুড়ির। বিশেষত মাঝিমাল্লাদের দেবী তিনি। পুজোর নৈবেদ্য হিসেবে নারকেল, ফলমূল,পায়েস উৎসর্গ করা হয়। উৎসর্গ করাহয় ‘ছলন’ অর্থাৎ মাটির হাতি, ঘোড়ার মূর্তি। সুতোতে ঢিল বেঁধেও মানত করেন অনেকেই। পরে পুজো দিয়ে মানত রক্ষাও করেন।
নিউজ এক ঝলকে
ঝাড়গ্রামের সাঁতাইবুড়ি মাঝিমোল্লার দেবী
95%

















