জেলা শাসক দপ্তরে ধর্ণায় ক্যান্সার রুগী
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ শারীরিক তীব্র যন্ত্রনার হাত থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজন চিকিৎসা। সেই চিকিৎসার জন্য বহু জনের দরজায় ঘুরেও মেলেনি সুরাহা। শেষমেশ চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী করা সমস্ত রিপোর্ট ব্যাগে নিয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে হাজির হয় চলাফেরা করতে অক্ষম, মারণ রোগে আক্রাম্ত এক ব্যাক্তি। দীর্ঘ সময় একই স্থানে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত জেলা শাসক দপ্তর থেকে এমনই চিত্র ধরা পড়ে। জেলা শাসকের দপ্তরে অপেক্ষা রত ব্যাক্তি জানায়, সে বর্তমানে ক্যান্সার নামক মারণ রোগে আক্রান্ত। বাঁ পায়ে হওয়া টিউমারে ক্যান্সারের জীবাণু থাকায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে চলেছে সে। পায়ের শিরাগুলো অকেজো হওয়ায় অসার হয়েছে পা। তাই বর্তমানে চলাফেরা করতে একেবারেই অক্ষম সে। মারণ রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তি বারাসাত মহকুমার দেগঙ্গা ব্লকের নূর নগর অঞ্চলের রামনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ সুজাউদ্দিন মন্ডল। ৫ বছরের কন্যা, ২ বছরের পুত্র সন্তান, স্ত্রী ও পিতামাতাকে নিয়ে তাঁর সংসার। বৃদ্ধ পিতা কর্ম করতে অক্ষম। সামান্য ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত অর্থে সংসার চালাতেন তিনি। মারণ রোগ শরীরে বাসা বাঁধায় এখন কোনো কর্মই করতে পারেন না সে। তিনি বলেন, তার বাঁ পায়ে টিউমার হয়েছিল। যন্ত্রণা অনুভূত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ৬ মাস পূর্বে এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জারি ডিপার্টমেন্টে তিনি যান। চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী বায়োপসি রিপোর্ট করা হয়। রিপোর্টে ১০ শতাংশ ক্যান্সারের জীবাণু ধরা পড়ে। এরপরই ধাপে ধাপে চলে চিকিৎসার প্রক্রিয়াকরণ। চিকিৎসক এর কথা অনুযায়ী প্রথমে রেডিওথেরাপি ডিপার্টমেন্টে যায়। সেখানে সিটি স্ক্যান, এমআরআই রিপোর্ট সহ অন্যান্য আরও কিছু রিপোর্ট করে অঙ্ক অর্থপেডিক ডিপার্টমেন্টে যায়। সেখানেও কিছু রিপোর্ট করা হয়। এরপর জানতে পারেন, অজ্ঞান করার ডাক্তার লিখে দিলে অপারেশন এর জন্য তাঁকে ভর্তি নেওয়া হবে। পরে অজ্ঞানের ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে পারে, কিছু রিপোর্ট তখনও বাকি আছে। সেখান থেকেও কিছু রিপোর্ট করতে দেয়। সমস্ত রিপোর্ট করে তাতে অজ্ঞানের ডাক্তারের সই করিয়ে জমা দিতে যায় অঙ্ক অর্থপেডিক ডিপার্টমেন্টে। সেখানেই ঘটে বিপত্তি। সে বলে,তাঁর চিকিৎসা পাঁচ মাস ধরে চলছে। কিন্তু অপারেশন এর জন্য দেড় মাস ধরে একের পর এক ডেট দিলেও ভর্তি নিচ্ছে না এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিনি হত দরিদ্র মানুষ। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই তাঁর। এদিকে শরীরে ক্রমশই বাড়ছে মারণ রোগের যন্ত্রণা। ওই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এসএসকেএম-এ ভর্তির জন্য তিনি বহু সরকারি আধিকারিকের দরজায় গেছেন। এমএলএ, এমপি-র সার্টিফিকেট পাওয়ার আশায় তাঁর সমস্ত ডকুমেন্ট বহু জনার কাছে জমা দিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেশ জেলা শাসকের দপ্তরে যান তিনি। কিন্তু সেখানে ঘটে আর এক ঘটনা। জেলা শাসকের সাথে সাক্ষাৎ এর ইচ্ছে প্রকাশ করলে, ওই দপ্তরের আধিকারিকরা জানায়, ভোট নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে জেলা শাসক দেখা করতে পারবেন না। এরপর হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি সেখানে ধরনায় বসেন। তাঁর দাবি, মারণ যন্ত্রনার হাত থেকে মুক্তি দিতে জেলা শাসক সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করুক, নয়তো তাঁকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি দিক। পাশাপাশি তিনি স্পষ্টতই জানান,জেলা শাসকের সাথে সাক্ষাৎ না করে সে কিছুতেই বাড়ি ফিরবে না।
জেলা শাসক দপ্তরে ধর্ণায় ক্যান্সার রুগী
0%

















