বিজেপির ব্যানার খোলায় উত্তেজনা
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বিজেপি প্রার্থীর পোস্টার খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে একজনকে আটক করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে সাড়ে ছটা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার টিটাগড় থানার অন্তর্গত ব্রহ্মস্থান এলাকায় বিজেপি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অর্জুন সিং এর সমর্থনে লাগানো পোস্টার খোলাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। যে পোস্টার খুলে ফেলছিল, স্থানীয় বিজেপির নেতা কর্মীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর পরিচয় জানতে চায়। সেই সময় এক ব্যক্তি নিজেকে প্রথমে পুলিশ বলে পরিচয় দেয়। পরে জানায় সে নির্বাচন কমিশন থেকে এসেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো পরিচয় সে দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ। এরপর ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে টিটাগড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। একই সাথে পৌঁছায় বিজেপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। টিটাগড় থানায় ওই ঘটনার বিবরন জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তাঁরা। ওই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এদিন এমনই অভিযোগ করে রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের প্রো কনভেনার চিকিৎসক চন্দ্রমণি শুক্লা ও বিজেপি টিটাগড় মন্ডলের সভাপতি ধরমপাল প্রসাদ। তাঁরা বলেন, নির্বাচন ঘোষনা হয়েছে মানে নির্বাচনী বিধি পালন করা সকলের কর্তব্য। কিন্তু এদিন একজন লোককে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থীর ব্যানার গুলো ছিড়ে দিচ্ছে, এছাড়া কিছু ব্যানারে লাথিও মারছে। ওই সময় তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে সে নিজেকে পুলিশের কর্মী বলে দাবি করে। তাঁর পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়া হলে সে তা দেখায়নি। কিন্তু পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি পুলিশের কেউ নয়, সে ইলেকশন কমিশনের লোক। কিন্তু সেটাও ভুল। এমনটাই জানায় বিজেপি। ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় টিটাগড় থানায় তাঁরা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিজেপি এও জানায়, লোকটিকে পুলিশ আটক করেছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ধারণা তাঁরা থানা থেকে চলে যাবার কিছুক্ষণ পর ওই ব্যাক্তিকে ছেড়ে দেবে পুলিশ। তাঁদের কথায়, পোস্টার ছিঁড়ে প্রার্থী অর্জুন সিং-কে অপমান করাই ছিল ওদের আসল উদ্দেশ্য। ওরা মনে করছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে যেভাবেই হোক রুখে দিতে হবে। তবে ব্যানার ছিড়ে বা ব্যানারে লাথি মেরে ভারতীয় জনতা পার্টিকে রোখা যাবে না। প্রধান মন্ত্রীর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতে বহু উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। বিজেপির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলুক, লাথি মারুক, ঝান্ডা ছিড়ে ফেলুক, যা খুশি তাই করুক ওরা, কিন্তু মোদীজিকে কোনোভাবেই রোখা যাবে না। অর্জুন সিং-কে জিতিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁরা এও জানায়, তৃণমূল পার্টিকে ছেড়ে যে সকল মানুষ বিজেপিতে জয়েন করছে তাঁদের উপর রেগে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতীরা এরকম চক্রান্ত করছে। সন্ত্রাস সৃষ্টি করাই তৃণমূলের লক্ষ্য। তৃণমূলের পাশাপাশি ওই কাজে পুলিশও যুক্ত আছে বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে ওই কাজের পেছনে যারা যুক্ত তাঁদের চিহ্নিত করে সবার সামনে তুলে ধরবে বলে তাঁরা আশাবাদী এমনটাই জানায় বিজেপি। অপরদিকে টিটাগড় শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উমেশ ভার্মা বিজেপির করা অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে জানায়, বিজেপি আসলে নির্বাচন সম্পর্কে কিছু জানেই না। নির্বাচন করার আগে নিয়ম গুলো জানতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী এখন নির্বাচনের পর্ব চলছে। তাই সরকারি কোনও স্থানে পোস্টার, ব্যানার, রাজনৈতিক দলের বা নেতৃত্বের ছবি বা পোস্টার লাগানো যাবে না। তবে থানায় যখন ওরা অভিযোগ দায়ের করেছে, সেক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন সেটা খতিয়ে দেখুক। ওই কাজের পিছনে কেউ যুক্ত থাকলে সে শাস্তি পাবে। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, তাঁদেরও বেশ কিছু ব্যানার খুলে নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার পাশে অনেক বড় ব্যানার তাঁর পক্ষ থেকে লাগানো হয়েছিল, সেটা খুলে নেওয়া হয়েছে। ওরা আগে রাজনীতি শিখুক তারপর নির্বাচনে নামুক। বিজেপি কিছু জানে না, বোঝে না বলেই হাউ হাউ করে চিৎকার করে, এমনটাই জানান তিনি।

















