বিজেপি করার অপরাধে তৃণমূলের হাতে খুন
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বিজেপি করার আপরাধে বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করে তৃণমূল কর্মী। মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের যুবনেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুব নেতার বাড়ি ঘেরাও করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা থানার অন্তর্গত ঠাকুরনগর মানিকহীরা দেশপাড়ায়। খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইঘাটা বিধানসভা এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে বিজেপির দখলে যায়। বিজেপিকে সমর্থন করার অপরাধে স্থানীয় সহ ৬১ বছরের কানন রায় নামক বিজেপি কর্মীকে দীর্ঘদিন যাবত খুনের হুমকি দিচ্ছিল তৃণমূলের নেতা। বুধবার রাতে বৃদ্ধা কানন দেবী ঘুমিয়ে পরলেও বাড়ির আঙিনায় বসে ফুলের মালা গাঁথতে ব্যাস্ত ছিল বাড়ির অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয় কিছু মহিলা। সেই মুহূর্তে স্থানীয় সমীর মল্লিক নামে তৃণমূলের মদত পুষ্ট এক ব্যাক্তি মদ্যপ অবস্থায় বৃদ্ধার বাড়ির সামনে গিয়ে গালি-গালাজ করতে শুরু করে। তার প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীর ছেলে জয়ন্তকে বাঁশ দিয়ে মারতে শুরু করে। কানন দেবীর বউমা পাখি রায় সমীরের হাত থেকে তাঁর স্বামীকে উদ্ধার করতে গেলে সেও আঘাত প্রাপ্ত হয়, বেঁধে যায় বচসা। চিৎকার চেঁচামেচির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বৃদ্ধার। ছুটে যান ঘটনাস্থলে। এরপরই ঘটে বিপত্তি। বৃদ্ধা কানন দেবীর মাথায় বাঁশ দিয়ে সজোরে আঘাত করে সমীর। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বৃদ্ধা। কানন দেবীকে রক্ষা করতে তাঁর বউমা এগিয়ে গেলে, বউমার মাথাতেও আঘাত করে। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এরপর মদ্যপ সমীর তড়িঘড়ি ওই স্থান পরিত্যাগ করে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ওই বিজেপি কর্মী ও তাঁর বউমাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বউমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয় চিকিৎসক। তার মাথায় বেশ কটি সেলাই পড়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। কিন্তু বৃদ্ধার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর. জি.কর হাসপাতালে স্থানান্তর করে কর্মরত চিকিৎসক। তবে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার। এরপর পরিকল্পনা করে ওই বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, ওই হত্যার পিছনে মদত দিয়েছে তৃণমূল বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি নিরুপম রায় ও তার বাবা, এমনই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সকালে যুব নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হয় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসি। বিক্ষোভকারীদের কথায়, নিরুপম তৃণমূলের যুব সভাপতি হওয়ার পর থেকে এলাকায় সে নিজ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে। বিজেপি কর্মীদের প্রায়শই হত্যার হুমকি দেয় সে। ওই ঘটনায় নিরুপমের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে তারা। পরবর্তীতে গাইঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অভিযুক্ত সমীরকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরুপম জানায়, পঞ্চায়েত নির্বাচনে দিকেদিকে তৃণমূল জয়ী হয়েছে, তাই বিজেপি ঈর্ষান্বিত হয়ে তৃণমূলকে কলুষিত করার জন্যই তার বাড়ি ঘেরাও করেছে। ওই ঘটনার সাথে সে কোনোভাবেই যুক্ত নয় বলে সাফ জানায় সে।

















