দেশি মদ বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার যুবক
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, পুণ্ডরীকাক্ষ চক্রবর্তীঃ দীর্ঘদিন যাবৎ নানাবিধ দুষ্কর্ম, অবৈধ দেশি মদ বিক্রি -সহ একাধিক অবৈধ কাজ করে যাওয়া, স্থানীয় মানুষের অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার না-করায় এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল, অবশেষে অভিযুক্ত যুবককে পাকড়াও করল গাইঘাটা পুলিশ। যদিও এই গ্রেপ্তারে স্থানীয়রা স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে জানা গিয়েছে। কারণ এর আগেও বেশ কয়েক বার একই ধরণের একাধিক অভিযোগে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও এক অদৃশ্য কারণে অভিযুক্তের কোনো শাস্তিই হয় নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম সায়ণ ব্যানার্জী। বছর ২২ -এর সায়ণের বাড়ি গোবরডাঙা থানার অন্তর্গত গণদীপায়ন বটতলা এলাকায়। আরও জানা গিয়েছে যে, এলাকায় সে রীতিমত ভীতির পরিবেশ কায়েম করেছিল। এবং উঠতি মাস্তান হিসেবে সে ইতিমধ্যেই নিজেকে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিতও করে ফেলেছে। এলাকায় কান পাতলেই তার দুষ্কর্মের তালিকা স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে। ছিনতাই, রাহাজানি, নারীর সম্ভ্রমহানী, মানুষকে কামড়ানো, শারীরিক ভাবে মারধর করা-সহ অন্যান্য অবৈধ দ্রব্যের পাচার–সবকিছুতেই সে হাত পাকিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। এসবের প্রতিবিধান চেয়ে স্থানীয়রা একাধিক বার নানা মহলে অভিযোগ জানিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বার কয়েক পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও দিব্বি সে ছাড়া পেয়ে এসেছে। কার ‘আশীর্বাদী হাত’ তার মাথায়— এই প্রশ্নের উত্তর স্থানীয় সূত্রেই জানা গিয়েছে। তার বাবা আশীষবাবু ও সম্পর্কিত জ্যাঠামহাশয় বাচ্চু ঘোষাল হাবড়া এলাকার শাসক দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়াতে থাকেন। তাঁদেরই আশীর্বাদের হাত সায়ণকে বারংবার ছাড়াতে সাহায্য করেছে। ন্যূনতম প্রতিবিধান এলাকার মানুষ পাননি বলে জানা গিয়েছে। ফলতঃ তার দুষ্কর্ম গাইঘাটা, গোবরডাঙা ও হাবড়া থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রাতে গাইঘাটা থানার পুলিশ কর্মী গোপন মাধ্যমে খবর পান যে, থানারই কুলপুকুর এলাকায় জনকয়েক যুবককে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। অন্যান্যরা পালাতে সক্ষম হলেও দুষ্কর্মের উঠতি নায়ক সায়ণ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তার কাছ থেকে ১৫ লিটার অবৈধ দেশি মদ উদ্ধার করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তাকে বনগাঁ আদালতে পেশ করার জন্য রওনা হয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন পাশাপাশি হাবড়া-গোবরডাঙা ও হাবড়া থানার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দারা। সায়ণ ও তার দলবলের ভয়ে এলাকার মানুষ ভয়ে সিঁটিয়ে থাকলেও তাঁরা কিছুই করতে পারছিলেন না। কেন না তার বাবা-জ্যাঠার ঘনিষ্ঠতা স্থানীয় শাসকদলের প্রভাবশালীদের সাথে থাকার কারণে তার কোনো শাস্তি হয় নি। স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ বেধেছিল। কিন্তু তার এবারের গ্রেপ্তারেও তারা খুশি নন। পুলিশের উপর ভরসা নেই বলে এলাকাবাসীরা প্রকাশ্যেই জানালেন। সায়ণের উপযুক্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসীরা পথে নেমে লাগাতর আন্দোলন করবেন বলে সংবাদ প্রতিনিধিকে জানান।

















