ইসরোর সূর্য অভিযান শিলিগুড়ির বিজ্ঞানী
দাবদাহ লাইভ, শিলিগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ চাঁদের মাটিতে সফল অবতরণ করেছে চন্দ্রযান তিন। এবার টার্গেট সূর্য অভিযান। আগামী ২ সেপ্টেম্বর সূর্যের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে ইসরোর আদিত্য এল-১। যা হবে ভারতের প্রথম সূর্য অভিযান। শিলিগুড়ির জন্য বিশেষ সুখবর , কারণ সূর্য অভিযানের সাথে নাম জুড়িয়েছে শিলিগুড়ির ছেলের। শিলিগুড়ির অন্তর্গত দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা জন্মেজয় সরকার, শিলিগুড়ির এই ছেলে আদিত্য এল-১ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পর্যবেক্ষণ করবার জন্য এই অভিযানে যে টেলিস্কোপ পাঠাচ্ছে ইসরো, সেই টেলিস্কোপ তৈরির সাথে যুক্ত রয়েছে জন্মেজয়। চন্দ্রযান-৩’এর সফল অবতরণ করবার পর এবার আদিত্য এল-১ নিয়েও অনেক আশা রয়েছে দেশবাসীর মধ্যে। জোর কদমে কাজ করছে শিলিগুড়ির তরুণ বিজ্ঞানী জন্মেজয় সরকারও। পরিবার ,নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে সে। গর্বের সাথে জানালেন তার বাবা দেবাশীষ বাবু। তিনি জানান ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল আকাশ দেখার। আকাশ নিয়ে গবেষণা করার। কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে তার হাত ধরেই শিলিগুড়ির জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত ক্লাব ‘সোয়ান’–এর জন্ম হয়। সেখানে ছেলেকে নিয়ে নিত্য যাতায়াত ছিল। মূলত সোয়ান’–এর সদস্য হিসেবেই আকাশ দেখার ‘হাতেখড়ি’ জন্মেজয়ের। ভারতে এই প্রথম এইচ আলফা টেলিস্কোপ দিয়ে সূর্যগ্রহণের ছবি তোলেন তিনি। বাবার মতো জন্মজয়ের স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই প্রথম ধাপ। স্কুল ও কলেজ শেষে করবার পর জন্মেজয় পদার্থবিদ্যা নিয়ে স্নাতকোত্তর করতে ভর্তি হয় তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই মহাকাশ পদার্থবিদ্যা তথা অ্যাস্ট্রোফিজিকস নিয়ে চর্চা শুরু হয়। উল্লেখ্য সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ শুরু করে। পরবর্তীকালে সে সুযোগ পায় ই-ইউকা ওরফে পুনের ইন্টার ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রো ফিজিক্স-তে কাজ করার। ২০১৯-এ তিনি যে টেলিস্কোপটি তৈরির করার ক্ষেত্রে দায়িত্বে ছিলেন, সেটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির গতিপ্রকৃতির উপর নজর রাখবে। ইসরোর উক্ত সূর্য অভিযানে বিভিন্ন সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিয়েছে ইসরো। তার মধ্যে অন্যতম হল ই-ইউকা। মহাকাশ চর্চায় বিশ্বের অন্যতম এই প্রতিষ্ঠানের উপরই দায়িত্ব ছিল আদিত্য এল-১’এর সোলার আলট্রাভায়োলেট ইমেজিং টেলিস্কোপ সুট তৈরির। জন্মেজয় এই টেলিস্কোপ তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই জড়িয়ে রয়েছেন। চন্দ্রযানের থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি পথ অতিক্র ম করে পাড়ি দেবে আদিত্য এল-১। অন্ততপক্ষে ৪০ দিনের যাত্রাপথের শেষে কার্যত একটি শূন্যস্থানে মহাকাশ যানটিকে স্থাপন করতে হবে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। অভিযান সফল হলে ভারত মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে, বলা যেতেই পারে। পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে যাবে জন্মজয়ের। আর এতেই গর্বিত জন্মজয়য়ের বাবা দেবাশীষ বাবু। ছেলের এই সাফল্য দেখবার জন্য এদিন তিনি শিলিগুড়ি থেকে উড়ে যাবেন শ্রীহরিকোটাতে এই বিষয়ে জানা গেছে। সেখানে বসে নিজে চোখেই দেখবেন ছেলের সাফল্য, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। কার্যত ছেলের হাত দিয়েই নিজের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে বলে মনে করছেন দেবাশীষ সরকার।তিনি আরো জানান, ছেলের এই সাফল্যের থেকেও, ভারতের সাফল্যকে তিনি বড় করে দেখছেন।

















