স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেই লাইসেন্স বাতিল
বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
দাবদাহ লাইভ, মহ: মফিজুর রহমানঃ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতেই হবে, অস্বীকার করলেই লাইসেন্স বাতিল। সোমবার বিধানসভা থেকে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চোখ রাঙাচ্ছে ম্যালেরিয়াও। ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও রোগীদের ভর্তি নিতে চাইছে না বহু বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম। সোমবার রাজ্যের বিধানসভা অধিবেশনে এবিষয়ে প্রশ্ন তোলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ। তারই জবাবে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করতেই হবে। অস্বীকার করলেই লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে সতর্ক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, টাকার দিকে না তাকিয়ে রোগী এলে ব্যবস্থা নিন। কেউ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিতে অস্বীকার করলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেব। প্রয়োজনে কোভিড মোকাবিলার মতো ব্যবস্থা নেব। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ এর ১৭ মে পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রশাসনিক বৈঠকের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন জেলাস্তরের এক প্রতিনিধি। বার বার সরকারের পক্ষথেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও বহু নার্সিংহোম, হাসপাতাল স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অনেক নার্সিংহোম, হাসপাতাল কিভাবে মানুষের হয়রানি করছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই প্রতিনিধি বলেন, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রোগী যদি স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখান, সেক্ষেত্রে নানা টালবাহানা করে কিছু নার্সিংহোম, হাসপাতাল। কখনও বলা হয় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রিনিউ করাতে হবে, না হলে অস্ত্রোপচার করা যাবে না। আবার কখনও অন্য যুক্তি দেখিয়ে হয়রানি করা হয় রোগীর পরিজনদের। এভাবে চলতে থাকলে রোগীকে বাঁচানোই সম্ভব হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্তি জানান ওই প্রতিনিধি। শুনে অভিযুক্ত নার্সিংহোম, হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, তার পরেই অভিযুক্ত নার্সিংহোম, হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে যাতে চটজলদি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ভাবে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের মার্চ মাসে ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট’ (পিএমইউ) গড়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। যার কাজ ইতিমধ্যে বেশকিছুটা এগিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। পিএমইউ গঠন হয়ে গেলে অনলাইন ও অফলাইন দুটি পদ্ধতিতেই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন আমজনতা। তখন যে সমস্ত নার্সিংহোম ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠবে , তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে রাজ্য সরকার।













