আন্তর্জাতিক সর্প দিবসে ওঝার কেরামতি দেখাতে শিশুমৃত্যু
দাবদাহ লাইভ, ক্যানিং, সজল দাশগুপ্তঃ রবিবার ছিল আন্তর্জাতিক সাপ দিবস। সেই আন্তর্জাতিক সাপ দিবসেই কালাচের দংশনে আক্রান্ত হলেন একই পরিবারের মা ও শিশু কন্যা সহ দুই মেয়ে । অন্যরা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়লেও মৃত্যু হল ওই শিশুর।মৃত শিশুর নাম হালিমা সরদার(৬)। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার কানিংয়ে নিকারীঘাটা পঞ্চায়েতের পাঙ্গাশখালি গ্রামে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,পাঙ্গাশখালি গ্রামের বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্জাক সরদার। তাঁর দুই মেয়ে ও স্ত্রী। তিনি আন্দামানে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়িতে থাকতেন স্ত্রী ও দুই মেয়ে রেশমা,হালিমা সরদার। রেশমা পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। অপর দিকে হালিমা প্রথম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।অন্যান্য দিনের মতো শনিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া করে মা ও মেয়েরা একটি বিছানায় মশারী টাঙিয়ে ঘুমিয়েছিলেন।গভীর রাতে বিছানার মধ্যে মা ও দুই মেয়েকে কালাচ সাপে কামড় দেয়।রাত দুটো নাগাদ বুঝতে পারেন ছলেমা সরদার। তিনি বিছানার মধ্যে সাপটি দেখতে পেয়ে মারার জন্য উদ্যত হলে সাপটি পালিয়ে যায়।গভীর রাতে ঘটনার কথা প্রতিবেশীদেরকে জানায়। পরে স্থানীয়রাএক ওঝা -গুণীনের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে রবিবার সকাল পর্যন্ত চলে ঝাড়ফুঁক। পরিস্থিতি খারাপ হতে হাল ছেড়ে দেয় ওঝা। প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। মা মেয়েকে ক্যানিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।হালিমা কে তড়িঘড়ি ২৫ টি সাপে কামড়ানো প্রতিষেধক দেওয়া হয় হাসপাতালের তরফে। তবে ওঝা গুণীনের কাছে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করায় শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় ছোট্ট হালিমার। অন্যদিকে ছলেমা সরদার একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি বাড়িতে চলে যান। ঘন্টা দেড়েক পর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পাশাপাশি রেশমার অবস্থা সঙ্কটজনক হলে তাকে কানিং থেকে বারুইপুর এবং পরে আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রতিবেশী ইয়াকুব সরদার জানিয়েছেন, রাতে তিনজনে ঘুমিয়েছিলেন। বিছানায় সাপে কামড় দেয় তিনজনকেই। জানতে পারার পর স্থানীয় এক ওঝা-গুণীনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ছোট মেয়ে হালিমার মৃত্যু হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ডাঃ সমরেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, সাপের কামড়ে মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ওঝা-গুণীন করার জন্য দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় চেষ্টা করা স্বত্বেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।








