সেলামপুরে বোমাতঙ্কে রাজনৈতিক তরজা
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্য রাজনীতি। প্রায়শই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার চিত্র বিভিন্ন স্থান থেকে উঠে আসতে দেখা যায় সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। ব্যাতিক্রমী নয় জনসম্মুখে তুলে ধরা এই ঘটনাটি। ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে ও বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে হয় বোমা বিস্ফোরণ, উদ্ধার হয় একটি তাজা বোমা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার মোহনপুর থানার শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েত এর অন্তর্গত সেলামপুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রবিবার রাতে হঠাৎই বোমা বিস্ফোরনের শব্দে কেঁপে ওঠে শিউলি পঞ্চায়েতের সেলামপুর এলাকা। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সকালে এলাকার মানুষ প্রাতঃভ্রমনে বেরিয়ে রাস্তার পাশে থাকা ফাটা বোমার অংশ একইসাথে একটি তাজা বোমা দেখতে পায়। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও পরিলক্ষিত হয়। স্থানীয় মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোহনপুর থানার পুলিশ পৌঁছে তাজা বোমাটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কে বা কারা এই বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় মোহনপুর থানার পুলিশ। এদিনের বোমা বিস্ফোরণ ও তাজা বোমা উদ্ধারকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানোউতোর। হাতে গোনা কয়েকদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই নির্বাচনের পূর্বেই বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে বোমা বিস্ফোরণ ও তাজা বোমা উদ্ধার হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয়দের কথায়, বোমাবাজি করে একপ্রকার আতঙ্কের বাতাবরন সৃষ্টি করা হচ্ছে এলাকায়, যাতে মানুষ সুস্থ ভাবে ভোট প্রদানের জন্য ভোট কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারে। রবিবার রাতে এলাকায় দুষ্কৃতী তান্ডব হবার পর সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে অনেক দেরিতে পৌঁছায় পুলিশ, ফলে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলেও জানায় স্থানীয়রা। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বোমাবাজির ঘটনা মূলত প্রার্থীকে উত্তপ্ত করা ও ভয় দেখানোর চেষ্টা বলেও অনুমান স্থানীয়দের। স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রার্থীর স্বামী অলোক জানা-র কথায়, ৫ ও ৬ নম্বর বুথের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র হল সেলামপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। অর্থাৎ ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। যার মধ্যে একটি বোমা ফেটেছে এবং একটি বোমা ছিল অক্ষত। স্বভাবতই বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মনে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভীত সন্ত্রস্ত করতে তৃণমূলের তরফে বোমাবাজির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার। তিনি এও বলেন গত পাঁচ বছর আগে ঠিক এমনই পরিস্থিতি তৈরি করেছিল শাসক দল। শাসক দলের বিরুদ্ধে এতো দূর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে যে, নির্বাচনে হেরে যাবার ভয় পাচ্ছে। তাই ওরা এসব কান্ড-কারখানা ঘটিয়ে চলেছে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া রুখে দেবার জন্য। এক কথায় আতঙ্কিত করে তুলছে এলাকাবাসীদের। এ প্রসঙ্গে শিউলি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরুন ঘোষ বিজেপির অভিযোগকে অস্বীকার করার পাশাপাশি বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব দলই প্রার্থী দিয়েছে, সেক্ষেত্রে তারা কাউকে বাধা দেয়নি। এমনকি পোস্টার, দেওয়াল লিখনের ক্ষেত্রেও এলাকায় কোনো ঝামেলা হয়নি। প্রচারের স্বার্থে তৃণমূলের দেওয়ালে লিখেছে বিজেপি। সেই বিষয় নিয়ে শাসকদল কোনো প্রতিবাদও করেনি বলে দাবি তার। তার কথায় সিপিএম, বিজেপি নিজেরা বোমা নিক্ষেপ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে একটা খারাপ বার্তা প্রেরণ করতে চাইছে। সেলামপুর এলাকা সর্বদাই শান্ত, সেখানে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। বিজেপি কোনো জায়গায় তাদের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছে না, ওদের জনবল নেই, এজন্যই বিজেপির ছেলেরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে এলাকায় ভয় দেখাচ্ছে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যা করেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কাজ করছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে এমনই মত প্রকাশ করেন, সেলামপুরের তৃণমূল প্রার্থী অরুণ ঘোষ।








