সুন্দরবন দূষণের নেপথ্যে
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, প্রবীর মুখোপাধ্যায়ঃ সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় ক্রমশ বেড়ে চলেছে দূষণ। মানুষ সহ বিভিন্ন প্রাণীকূলের ক্রমশ বিপর্যয় বাড়ছে। একদিকে নদী জলাশয়গুলি দূষিত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে পরিবেশও দূষিত হয়ে পড়ছে। একটা সময় সুস্থ পরিবেশ বজায় ছিল সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলি। নদী-নালা খাল-বিল প্রভৃতি জলাশয়গুলির জল স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত ছিল। অনেকেই তা পানীয় হিসেবে পান করতেন। গ্রাম্য নারীরা কলসী করে পুকুর-দীঘি-চৌবাচ্চা থেকে পানীয় জল নিয়ে আসতো। এখন সেই সব কথা ভাবাই যায় না। মাত্রাছাড়া দূষণ বেড়েছে বছরের পর বছর ধরে। সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে পরিবেশ আদালতে। সুন্দরবনের পরিবেশ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে বিপর্যয় নেমে আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল রিপোর্টে । দূষণের কারণ হিসেবে সুন্দরবনের স্থানীয় মানুষদের একাংশের বক্তব্য,”পুরনো ট্রলার, লঞ্চ, ভুটভুটি সহ বিভিন্ন জলযান থেকে দূষিত তেল সুন্দরবনের নদী-জলাশয় গুলিতে মিশে চলেছে। তা থেকে দূষণ হচ্ছে মানুষ সহ প্রাণীকূলের। পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে জীব বৈচিত্র্যেরও। পর্যটকরা সচেতন না হওয়ার কারণে নিষ্কাশিত বর্জ্যও সরাসরি নদীর জলে মিশে চলেছে। জলে দূষণ ও রঙের বদল ঘটে চলেছে। সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ প্রজাতি বিলুপ্ত হতে বসেছে। উল্লেখ করা যায়, ১৯৭৩ সালে ব্যাঘ্র প্রকল্পের অন্যতম সুন্দরবনকে টাইগার রিজার্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-র মর্যাদা প্রাপ্তি ঘটে। বাঘ ছাড়াও এখানকার ম্যানগ্রোভের কারণে এই স্বীকৃতি মেলে। দেশের ম্যানগ্রোভের ৬০ শতাংশই এখানে দেখতে পাওয়া যেত। এখন ম্যানগ্রোভ বা বাদাবনের একটা অংশ লুপ্ত হতে বসেছে। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের একটা বড় অংশের অভিমত, অনেক ধরণের মাছের দেখা এখন আর মেলে না। বাঘ থেকে শুরু করে খাঁড়ির কুমির, কচ্ছপ, গাঙ্গেয় ডলফিন, নানা প্রজাতির সাপের সংখ্যাও ক্রমশ কমছে। আগে বিভিন্ন ধরণের মাছরাঙা চোখে পড়তো। এখন তাদের অস্তিত্ব সঙ্কট। … চলবে









