বেতন ও পরিচয় পত্রের দাবীতে  সাফাই কর্মীদের বিক্ষোভ

 দাবদাহ লাইভ, শান্তিপুর, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ নিয়মিত কর্ম করেও বেতন ও পরিচয়পত্র না মেলায় কর্মবিরতির পথে হাঁটে পুরসভার সাফাই কর্মীরা। ফলে জমে যাওয়া আবর্জনা থেকে দূর্গন্ধ ছাড়ানোর কারণে নাজেহাল এলাকাবাসী। তিন দিন কাটলেও পৌরপ্রধান নীরব থাকায় ক্ষুব্ধ সাফাই কর্মীরা পৌরসভার গেটের সামনে ও পৌরপ্রধানের কক্ষের বাইরে নোংরা আবর্জনা ফেলে বিক্ষোভে সামিল হয়। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। বুধবার বঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর পৌরসভা থেকে এমনই দৃশ্য ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। সাফাই কর্মীদের বক্তব্য- কাজ করেও দীর্ঘদিন যাবত তাঁরা বেতন পাচ্ছে না। পরিচয় পত্রও দেওয়া হয়নি তাঁদের। বেতন ও পরিচয়পত্রের দাবিতে পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালে কেবল আশ্বাসই মিলেছে। কিন্তু দাবি পুরণ না হওয়ায় মুলত বাধ্য হয়েই তাঁরা কর্ম বিরতির পথ বেছে নেয়। যার ফলে চারিদিকে নোংরা, আবর্জনা জমে এলাকায় পচা দুর্গন্ধ ছড়ানোয় স্থানীয়দের নাজেহাল পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। তবুও কোনও হেলদোল দেখায়নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। শেষ পর্যন্ত এদিন কর্মব্যস্ত সময়ে বিভিন্ন এলাকার নোংরা আবর্জনা সংগ্রহ করে নিয়ে পুরসভায় ঢোকে সাফাই কর্মীরা। এরপর পুরসভার ভেতরে এমনকি পৌরপ্রধান সুব্রত ঘোষের ঘরের সামনে পচনশীল আবর্জনা এমনকি মৃত কুকুর ছড়িয়ে বকেয়া বেতন সহ অন্যান্য দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাঁদের কথায়, নিয়মিত কাজ করার পর বেতন না পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। তিন দিন যাবত কর্ম বিরতি চালালেও চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁরা এও বলেন, একই সমস্যা নিয়ে পূর্বে শান্তিপুরের বিধায়কের কাছে তাঁরা গিয়েছিলেন। সেই সময় সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু মাস ঘুরতেই একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কারণে তাঁরা আন্দোলনে নামে। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পৌরসভার ভেতরে যত্রতত্র ফেলা আবর্জনাও পরিষ্কার করা হয়। এদিন চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের পদত্যাগের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ চলে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

0 Comments

Leave a Comment