স্বস্তির নেপথ্যে কালবৈশাখী
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বৈশাখ মাস মানেই তপ্ত দুপুর, ঘর্মাক্ত কলেবর নিয়ে কর্ম সম্পাদনে নিমগ্ন হওয়া। তীব্র দাবদাহে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হওয়া। আবার বৈশাখ মানেই ঝঞ্ঝা মাস, একটু ঝোড়ো হাওয়ায় পড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস। কখনো বা কালবৈশাখীর দাপটে সব লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে কেবল মানুষের দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু সোমবার ক্ষনিকের কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া যেন তপ্ত বাতাসকে দূরে সরিয়ে প্রকৃতিকে করে দেয় শীতল। ক্ষয়ক্ষতির তেমন কোনো সংবাদ মেলেনি, কিন্তু দীর্ঘ তাপ প্রবাহের দহন জ্বালা থেকে জীবকুলে মিলেছে স্বস্তি। আবহাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী সোমবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে হয় এক পশলা বৃষ্টি। দীর্ঘদিন যাবত তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে নাজেহাল হয়ে উঠেছিল জনজীবন। রৌদ্রের প্রখর তেজে কৃষিকাজ সমৃদ্ধ এলাকায় দেখা দিতে শুরু করে প্রবল জল সংকট। ছোটখাটো জলাশয়ের জল গিয়েছে শুকিয়ে। জলের অভাবে মাটি হয়ে উঠেছে ফুটিফাটা। তীব্র দাবদাহে ফসল যাচ্ছিল পুড়ে। তাপ প্রবাহের ফলে দিনের বেলা কৃষিকাজ থেকে বিরত থাকলেও রাতের বেলা টর্চের আলোয় চলতো চাষের জমিতে ফসল উৎপাদন সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞ। এমন চিত্র বারংবার উঠে আসছিল। যা নিয়ে কৃষককুলের কপালে পড়েছিল চিন্তার ভাঁজ। স্কুল কলেজ পড়ুয়া সহ চাকুরিজীবি মানুষেরাও বিপাকে পড়েছিল। রুটি রুজির তাগিদে রৌদ্রের তীব্র দহন জ্বালা সহ্য করেও কর্মস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছিল শ্রমজীবী মানুষদের। শ্বাসরোধ করা রৌদ্রের দহন জ্বালা থেকে মুক্তি বলতে একটু বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিল সকলে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃষ্টিকে সাথে নিয়ে ঝোড়ো হাওয়া এসে যেন প্রকৃতিকে দিয়ে যায় একটু শান্তি। সোমবার সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বেলা বাড়তেই আকাশ কালো হয়ে আঁধার ঘনিয়ে আসে, ওঠে ঝড়। কালবৈশাখী ঝড়ের পরই নামে এক পশলা বৃষ্টি। স্বভাবতই রৌদ্রের দহন জ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করে জীবকুল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল সহ বারাসাত, হাবরা, বসিরহাট, বাদুড়িয়া, টাকি, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি ও মিনাখাঁর মতো সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা সহ বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া সহ সামান্য বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রকৃতি হয়েছে শীতল। কৃষিকাজে নিমজ্জিত মানুষ সহ পশু, পাখি এক কথায় সমস্ত প্রাণীকুল পেয়েছে স্বস্তি। কালবৈশাখীর প্রকোপে ক্ষতি নয়, মিলেছে স্বস্তি। তাই সকলের প্রার্থনা, পুনরায় নামুক বৃষ্টি।








