সুরা পানের প্রতিবাদ করে আহত শিক্ষক
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ সুরা পানের বিরোধিতা করায় বেধড়ক মারধর করা হয় এক শিক্ষককে। ফলে আহত হয় ওই শিক্ষক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার বেলঘড়িয়া থানার অন্তর্গত কামারহাটি পৌরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দননগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের কথায়, শনিবার সকাল ৬ টা নাগাদ একদল যুবক-যুবতীকে প্রকাশ্য রাস্তায় সুরা পান করতে দেখে প্রতিবাদ করেন নন্দননগরের বাসিন্দা নিরুপম পাল নামে একজন অঙ্কন শিক্ষক। প্রতিবাদ করা মাত্রই মদ্যপানরত কয়েকজন যুবক-যুবতী তাঁর উপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। তিনি বাঁচার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁর নাক মুখ ফাটিয়ে দেবার পাশাপাশি, চোখ ও বুকে আঘাত করে তাঁরা। ঘটনা নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফলে রক্ষা পায় শিক্ষক, পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ওই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ। ওই ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই বহিরাগত বলে অনুমান স্থানীয়দের। পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দিক। এমনই দাবিতে সরব হয় স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত ওই শিক্ষক জানান, কালীপুজোর নিমন্ত্রণ রক্ষা করে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। রাস্তার পাশে এক জলাশয়ের ধারে চারজন যুবক এবং এক যুবতীকে মধ্যপান করতে দেখে তিনি প্রতিবাদ জানান। তখনই পাঁচজন মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। স্থানীয়রা এসে রক্ষা না করলে তিনি মরেই যেতেন। ভবিষ্যতে পুনরায় অভিযুক্তরা তাঁকে আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি জানিয়ে বেলঘড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত শিক্ষক সহ স্থানীয়রা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মারধরের পুরো ঘটনাটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায় ৪ জন যুবক ও ১ জন যুবতী মিলে নিরূপম পালকে কিল, চড়, ঘুসি ও লাথি মারছে। তিনি হাত দিয়ে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করছেন। আহত শিক্ষক বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে মন্দিরা মুখোপাধ্যায় নামে অভিযুক্ত যুবতীকে নিমতা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জয়, অভয় ও পাপাই নামে আরও তিনজন অভিযুক্তকে পুলিশ চিহ্নিত করতে পেরেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে অন্যান্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। ওই খবর পেয়ে সকালেই আক্রান্ত শিক্ষকের বাড়িতে যান বেলঘড়িয়ার স্থানীয় কাউন্সিলর ও টাউন কমিটির প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ সাহা। এদিনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
সুরা পানের প্রতিবাদ করে আহত শিক্ষক
0%

















