সুরা ও মধুচক্রের অভিযোগে রাতে পঞ্চায়েত ভবন ঘেরাও
দাবদাহ লাইভ, বসিরহাট, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্টিনে সুরা বিক্রয় ও মধুচক্র চালানোর অভিযোগে আচমকা রাতের বেলা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট পুলিশ জেলার অন্তর্গত পিফা পঞ্চায়েত ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হয় স্থানীয় গ্রামবাসীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ উঠে যায়। উদ্ধার হয় ৫ বোতল দেশি সুরা। মানুষের সুবিধার্থে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে একটি ক্যান্টিন ভাড়া দেওয়া হয়। যেখানে খাবারের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবত চলছিল মহিলা চালিত সুরা বিক্রয় এর পাশাপাশি মধুচক্রের কারবার। ওই কারবারের বিরোধিতা করলেই মিলত হুমকি। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছিল গ্রামবাসী। এমনই অভিযোগ উঠে আসে পিফা পঞ্চায়েত এলাকাবাসিদের পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ক্যান্টিনের ভিতর এক মহিলা কর্তৃক সুরা বিক্রির ঘটনা প্রকাশ্যে আসা মাত্রই কোনোরূপ ভয় বা হুমকির তোয়াক্কা না করে পিফা পঞ্চায়েত ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হয় বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী। বিক্ষোভকারীদের কথায় পঞ্চায়েতের ভাড়া দেওয়া ওই ক্যান্টিন চালু হবার প্রথম দিকে নিয়ম নীতি মেনে খাবার বিক্রি হলেও পরে খাবার বিক্রির অন্তরালে শুরু হয় এক মহিলা কর্তৃক সুরা বিক্রয়ের কারবার। এরপর দীর্ঘদিন যাবত পঞ্চায়েতের ওই ক্যান্টিন সকাল ৭ টা থেকে রাত প্রায় ১ টা পর্যন্ত খোলা রেখে দেদার চলছিল সুরা বিক্রয় এর পাশাপাশি মধুচক্রের কারবার। যার নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছিল আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলে। ফলে এলাকায় এক প্রকার শান্তি সৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছিল। যার জেরে বহু পরিবারে অনেক দূর্ঘটনাও ঘটে গেছে ইতিমধ্যে। এলাকাবাসীরা ওইরূপ জঘন্য কারবারের বিরোধিতা করলে ক্যান্টিনের পক্ষ থেকে তা পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়। পাশাপাশি এলাকার প্রধান ও অঞ্চল সভাপতিকে দিয়ে ওই বিরোধিতাকারীদের জব্দ করার পাশাপাশি জেল খাটানোর ভয়ও দেখানো হত। ফলে ওই হুমকির ভয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ চোখের সামনে অন্যায় অবিচার হতে দেখে ক্ষোভে মনে মনে ফুঁসলেও, সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ তারা কখনোই করে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কিন্তু এদিন রাতে দীর্ঘক্ষণ ক্যান্টিন চত্বরে কিছু সংখ্যক নারীর অবস্থান, একইসাথে সুরা বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে এক মহিলা ধরা পড়ে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাদের ক্রোধ সম্বরণ করতে না পেরে কোনোরূপ ভয় বা হুমকির তোয়াক্কা না করে ওই রাতেই পঞ্চায়েত ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি এলাকাবাসীর কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে এলাকায় ওই জঘন্য কারবার বন্ধ করার পাশাপাশি ওই কারবারে যুক্ত ব্যক্তিদের যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন। দীর্ঘক্ষণ চলে তাদের ওই বিক্ষোভ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় যাবত বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনার উৎসস্থল থেকে এদিন ৫ বোতল দেশি সুরা উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেয় পুলিশ প্রশাসন। এদিকে ওই ঘটনা প্রসঙ্গে অঞ্চল সভাপতি আফতার গাজি জানান এদিনের ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে, ক্যান্টিন কর্মীদের কলুষিত করতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। তিনি এও বলেন যে ওই অঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসবাস করে। তারা কেউ সুরা পান করে না, তাই ওই স্থানে সুরা বিক্রি হয় না বলে দাবি আফতার গাজির।








