সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়াতে মোতায়েন হয়েছে বাড়তি সেনা
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা,উত্তর ২৪ পরগনাঃ কিছুদিন যাবত বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল অগ্নিগর্ভ। সেমতাবস্থায় সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পাশাপাশি দেশ-ও ছাড়েন। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। দিল্লি থেকে সীমান্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপরই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এর পক্ষ থেকে হাই এলার্ট জারি করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক আদান প্রদান হয়ে থাকে। তার মধ্যে বনগাঁর পেট্রাপোল বন্দর অন্যতম। বাংলাদেশের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে সোমবার দুপুরের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পেট্রাপোলে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তে চলছে কড়া নজরদারি। ওই স্থলবন্দরে বন্ধ হয়েছে আন্তর্জাতিক আমদানি রপ্তানির বাণিজ্যিক পরিষেবা। সীমান্ত এলাকা জুড়ে চলছে সেনাবাহিনীর টহলদারী। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার দুপুরে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার কথা ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। সাথেসাথেই ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের তরফেও হাই এলার্ট জারি করে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগকারী সীমান্ত এলাকাগুলিতে দুপুরের পর থেকেই নজরদারি বাড়ানো হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন-ই বিএসএফের ডিজি কলকাতায় পৌঁছে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করার পর বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএসএফের ডিজির স্পষ্ট নির্দেশ, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে কোনও মাছিও যেন গলতে না পারে। তাঁর কথায়, সুন্দরবন, উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদের বেশ কিছু অংশে ফাঁক ফোকর রয়েছে। সেখানে বাড়তি জওয়ান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনভাবেই প্রাণঘাতী গুলি চালানো যাবে না। আগে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে, তারপর বাকি কাজ। খুব এমার্জেন্সি হয়ে পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী রবার বুলেট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ফ্লোটিং বর্ডার আউট পোস্টের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। নদীপথে টহল দিতে হবে। যে সকল বর্ডার আউটপোস্টের অংশ স্পর্শকাতর হয়ে রয়েছে বা অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে বলে অনুমান অথবা জঙ্গি কার্যকলাপ আগে ওই অংশ দিয়ে হয়েছে, সেখানেই সবথেকে বেশি জওয়ান রাখার নির্দেশ দেন তিনি। এমতাবস্থায় দিনের আলোয় নয়, রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন বিএসএফের ডিজি। সে কারণে আগামী কয়েকদিন বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বর্ডার আউটপোস্ট গুলির ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং আধুনিক নাইট ভিশন ক্যামেরাগুলি সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তিনটি ফ্রন্টিয়ারের অধীনস্ত। উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার, দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার, গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ার। দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের তুলনায় উত্তরবঙ্গ এবং কোচবিহার ফ্রন্টিয়ার নিয়ে তেমন আশঙ্কিত নন ডিজি। কারণ বিএসএফের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স সূত্রে ইতিমধ্যেই খবর এসেছে, অনুপ্রবেশ এবং জঙ্গী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারই টার্গেট। আর সে কারণেই গত কয়েকদিন ধরে বারবার জওয়ানদের উপরে অস্ত্র নিয়ে হামলা হয়েছে। এদিন স্পর্শকাতর বর্ডার আউটপোস্ট এলাকাগুলিতে গিয়ে ওই বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করেন বিএসএফের ডিজি।

















