সাপ উদ্ধারের আর্জি
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বর্ষা কালে প্রাকৃতিক নিয়মে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। প্রায়শই শোনা যায়, মৎসজীবীদের জালে ধরা পড়েছে বিষধর সাপ। পরে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে সেই সাপ উদ্ধার করে নিয়েও যাওয়া হয়। কিন্তু আঁটলে আটকে পড়া সাপ উদ্ধার করতে অনীহা প্রকাশ করায়, বনদপ্তরের প্রতি ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক থেকে এমনই দৃশ্য ধরা পড়ে। হিঙ্গল গঞ্জের ঘোষপাড়া ও বিশ্বাস পাড়ার মধ্যস্থলে প্রতিদিনের ন্যায় গত রাতে মাছ ধরতে আঁটল পাতে এক মৎসজীবী। সকালবেলা সেই আঁটল তুলতে গিয়ে মৎসজীবীর চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। মাছ খেতে এসে আঁটলের মধ্যে আটকে পড়ে একটি প্রায় ৫ ফুট লম্বা বিরল প্রজাতির বিষধর পদ্ম গোখরো সাপ। তড়িঘড়ি সেই আঁটল জল থেকে ডাঙ্গায় তুলে বন দপ্তরে খবর দেয় মৎসজীবী। সকাল গড়িয়ে যায়, বনদপ্তরে বারবার খবর দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ওই বিষধর সাপটিকে উদ্ধার করতে আসেনি বনদপ্তর। ফলে বনদপ্তরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে এক বিজ্ঞান কর্মী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, হিঙ্গলগঞ্জে যখনই আঁটলে বা অন্য কোনভাবে কোন বিষধর সাপ ধরা পড়েছে, তখন আমরা বনদপ্তরে খবর দিয়েছি, তারা এসে সেই সাপগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ধরা পড়া সাপ উদ্ধারের জন্য তাদের ফোন করা হলে, তারা বলছেন বনদপ্তরে লিখিত নির্দেশ না থাকলেও মৌখিক নির্দেশ রয়েছে যে, আঁটলে পড়া সাপ তারা নেবেন না। পাশাপাশি কোনও জঙ্গলে ছেড়ে দেবার পরামর্শ দেন তারা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হিঙ্গলগঞ্জে লোকালয় থেকে দূরে এমন কোনও জঙ্গল নেই, যেখানে বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া যায়। বনদপ্তর সাপগুলিকে নিতে অস্বীকার করছে বলে অনেকেই বিরক্ত হয়ে বা না বুঝে ওই সাপগুলিকে মেরে ফেলছেন। তিনি আরও বলেন, একজন বিজ্ঞান কর্মী হিসাবে বিষয়টা তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। যেখানে বাস্তু তন্ত্রের একটি প্রধান উপাদান সাপ, সেখানে বনদপ্তরের অবহেলার কারনে তাদের মেরে ফেলা হচ্ছে। ওই প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে বনদপ্তর সাপগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ছেড়ে দিক। সংবাদমাধ্যম মারফত এমনই আর্জি জানান তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হল- বন সহ বন্য প্রাণীদের সুরক্ষিত রাখাই যেখানে বনদপ্তরের কাজ, সেখানে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কেন বিষয়টাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে! এ বিষয়ে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনরূপ সদুত্তর মেলেনি।

















