সরকারী ব্যবস্থ্যায় পড়ুয়ারা সমস্যায়
সুরাহার আশায় অভিভাবকরা
দাবদাহ লাইভ, সবং, অক্ষয় গুছাইতঃ উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে একই সাথে তিন জন শিক্ষক বদলি হয়েছেন অন্যত্র। থেকে গেছেন কেবলমাত্র একজন শিক্ষক। ফলে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর একটি জুনিয়ার হাইস্কুল কার্যত থেকেও নেই। কারণ, একজন শিক্ষক কিভাবে চারটি ক্লাস নেবেন একা। সামলাবেন পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের! এ প্রশ্নের উত্তর অজানা। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। কারণ, তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যেও। অভিভাবকরাও আর ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। এভাবেই চলছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং এর মানিকড়া জুনিয়র হাইস্কুল। রয়েছে স্কুলের বিল্ডিং, রয়েছে ছাত্রছাত্রী। কিন্তু বদলির চোটে নেই শিক্ষক। ভরসা কেবল একজন শিক্ষক। আর তিনি যদি অসুস্থ হন বা প্রশাসনিক কাজে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস বা অন্য কোথাও যান তখন স্তব্ধ হয়ে যায় স্কুলের পঠন পাঠন। সবং ব্লকের মানিকড়া জুনিয়র হাইস্কুলে পঠনপাঠন শুরু হয় ২০১০ সাল থেকে। শুরুতে সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। শিক্ষকও ছিলেন ৪ জন। কিন্তু উত্সশ্রী পোর্টালে আবেদন জানিয়ে বাকি তিন শিক্ষক বাড়ির কাছের স্কুলে চলে যান। তারপর থেকেই একা কুম্ভ রক্ষা করে চলেছেন শিক্ষক সন্দীপ পতি। তিনি বলেন, ”বারবার বিষয়টি প্রশাসনের সব স্তরে জানিয়েছি। সুরাহা মেলেনি।” কিভাবে চালাবেন স্কুল? শুধু তো পড়ানোই নয়, রয়েছে মিড ডে মিল, অফিসের কাজ- নানা বিষয়। তবে স্কুলে একজন গ্রুপ ডি কর্মী রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষক ন্যুনতম দু’জন না হলে কী চলে? তাই অভিভাবকরাও এগিয়ে আসেন। বাধ্য হয়ে এলাকার লোক নিজেদের ছেলেমেয়েদের স্বার্থে চাঁদা তুলে একজন শিক্ষক নিয়োগ করে রেখেছেন স্কুলে। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও দাবি, সব বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনাতে তারা পিছিয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, ”এতে তো আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হোক।” কিন্তু প্রশ্ন হল কিভাবে তিনজন শিক্ষককে বদলি করে দেওয়া হল? কেন পরিসংখ্যান দেখা হল না যে, ওই স্কুল এক শিক্ষকের হয়ে যাবে! এর জন্য সরকারি ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন সকলে। এখন দেখার কবে ফের শিক্ষক নিয়োগ হবে। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, যদি শিক্ষক নিয়োগ না হয় তাহলে ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। নাহলে তো ছেলেমেয়েদেরই ক্ষতি।








