শুভেন্দু গড়ে শাসক বিরোধী জোটের বিপুল জয়
দাবদাহ লাইভ, নন্দকুমার, অক্ষয় গুছাইতঃ বছর ঘুরলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঘুটি সাজাচ্ছে শাসক – বিরোধী উভয় গোষ্ঠী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার ব্লকের চক শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বহরমপুর কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচনে শাসক তৃণমূলকে রুখতে জোট বাঁধে বাম-বিজেপি। শুভেন্দুর গড়ে বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাজিমাত বিজেপির। মোট ৬৩টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসনে জয়লাভ করে বোর্ড গঠন করে রাম – বাম জোট। বাম-বিজেপির এই একসঙ্গে পথ চলার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। ‘বামের ভোট রামে গেছে’, ফের পুরনো কটাক্ষ আউড়ে বিরোধী দুই শিবিরকে তুলোধনা রাজ্যের শাসকদলের। শাসকদলের বিরুদ্ধে এই সমবায় সমিতিতে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তাই সমবায় সমিতি থেকে তৃণমূলকে সরাতে তৎপর হয় দুই শিবির। এবার সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে মোট ৬৩টি আসনে প্রার্থী দেয় দুই দলের গড়া ‘সমবায় বাঁচাও মঞ্চ’। এদিকে, তৃণমূলের তরফে শুরুতে সমিতির ভোটে ৪৬ আসনে প্রার্থী দেওয়া হলেও পরে ৩৫ জন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই নির্বাচনে বাম-বিজেপির সাফল্যের বীজটা সেদিনই পোঁতা হয়ে গিয়েছিল। কার্যত বিনা লড়াইয়ে জয় এসে গিয়েছিল বহরমপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ৫২ আসনে। গতকাল সমিতির বাকি ১১ আসনে ভোট হয়। ওই ১১ আসনেই বাজিমাত রাজনীতির ময়দানে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে থাকা বাম ও বিজেপির। শাসকদল তৃণমূলকে হারাতে রাম-বামের এই একসঙ্গে পথ চলা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে। তার আগে গ্রামস্তরের এই নির্বাচনে বাম ও বিজেপির জোট বাঁধাকে তাত্পর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে কি সরাসরি না হলেও নীচুস্তরের নির্বাচনগুলিতে এই ধরনের জোটে খুল্লমখুল্লা সায় রয়েছে আলিমুদ্দিন ও মুরলীধর সেন লেনের কর্তাদের? বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও ইঙ্গিতটা কিন্তু রয়েই গেল। এদিকে, তাঁদের হারাতে বাম-বিজেপি হাত মেলানোয় ফের চেনা ছন্দে আক্রমণ শানাচ্ছে জোড়াফুল।








