ট্রেনের কামরায় বচসার জের
রেল যাত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে জখম আরপিএফ কর্মী
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ ট্রেনের কামরায় নানান কারনে যাত্রীদের মধ্যে বচসা, এ কোনও নতুনত্ব ঘটনা নয়। বচসার জেরে বহু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার দৃশ্য প্রায়শই ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। এবার খোদ দমদম জংশনে ঘটে এক হাড়হিম করা ঘটনা। রেল পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে লাইনে ঝাঁপ দেয় এক যাত্রী। ওই যাত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে লাইনের উপর লাফিয়ে পড়েন আরপিএফ এর একজন সাব-ইন্সপেক্টর। সেই সময় ওই লাইনে চলে আসে শিয়ালদহগামী ডাউন ব্যারাকপুর লোকাল। গুরুতর জখম হয় ওই দু’জন। রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রেল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটের রানাঘাট গ্যালোপিন লোকাল ছাড়ার কিছু সময় পর সিটে বসা নিয়ে শুরু হয় যাত্রীদের মধ্যে বচসা। অভিযোগ, একজন নিজেকে রেলের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সিট দখল করে বসেছিলেন। ট্রেনে উপস্থিত যাত্রীরা ওই বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় বচসা। এদিকে চাকদা থেকে ট্রেনে চাপেন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা কর্মী, বর্তমানে সরকারি ব্যাংকে কর্মরত ৫৭ বছরের জগদীশচন্দ্র সরকার। রেলের ওই স্ব-ঘোষিত আধিকারিকের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন জগদীশ। তিনজনের সিটে কেন চারজন বসবে- এই নিয়েই শুরু হওয়া অশান্তি চরমে পৌঁছায়। রেলের ওই আধিকারিক আরপিএফ কে ফোন করলে, ব্যারাকপুর থেকে আরপিএফ এর বেশ কিছু কনস্টেবল এবং একজন অফিসার ওই ট্রেনে উঠে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। এরপর রেলের এক যাত্রী নিজেকে রেলের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সামান্য সিটে বসা নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছিল, যার সমাধানের চেষ্টা তিনি করেন বলে আরপিএফের কাছে অভিযোগ করেন জগদীশ। কিন্তু দমদম স্টেশনে ট্রেনটি ঢোকার পূর্বে তর্কবিতর্ক তুঙ্গে উঠে পরিস্থিতি একেবারে বিগড়ে যায়। সকাল নটা নাগাদ ট্রেনটি দমদম স্টেশনের দু’নম্বর প্লাটফর্মে ঢোকার পর ওই স্ব-ঘোষিত রেলের আধিকারিক ও আরপিএফ এর সঙ্গে যাত্রীদের বচসা বাঁধে। আরপিএফ এর পক্ষ থেকে একজন যাত্রীকে গ্রেফতার করতে যাওয়া মাত্রই যাত্রীরা বাধা প্রদান করে। ফলে পরিস্থিতি একেবারে বেসামাল হয়ে পড়ে দমদম স্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফর্মে। এমনকি জগদীশ বাবুকে কার্যত জোর করেই ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যেতে চাইছিল আরপিএফ। তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দমদম স্টেশন চত্বরে। এরপর আচমকাই জগদীশ বাবু আরপিএফের কবল থেকে বাঁচতে দু’নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে লাইনের উপর ঝাঁপ দিয়ে পড়েন। সেই সময় ওই প্লাটফর্মে ঢুকছিল শিয়ালদহগামী ডাউন ব্যারাকপুর লোকাল। বিষয়টি নজরে আসতেই আরপিএফ এর সাব ইন্সপেক্টর ২৮ বছরের করুণা কুমারী জগদীশকে বাঁচাতে লাইনের উপর লাফিয়ে পড়েন। ব্যারাকপুর লোকাল দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ায়। ট্রেনের নীচে লাইনের ফাঁকে আটকে যায় জগদীশ এবং করুণা। ওই দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠে স্থানীয় সহ অন্যান্য যাত্রীরা। ট্রেনটি চলে যাবার পর দেখা যায়, জগদীশ ও করুণা প্রাণে বাঁচলেও মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে দু’জনই। দেখা যায় শরীর থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে জগদীশের ডান পা। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে করুণা। জানা যায়, ট্রেনের নীচে লাইনের উপরে থাকা অবস্থায় জগদীশ করুণার হাত থেকে রেহাই পেতে, পা সরাতে যাওয়া মাত্রই ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাদ যায় তাঁর ডান পা। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দু’জনকেই উদ্ধার করা হয় রেল পুলিশের পক্ষ থেকে। আহত জগদীশকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আর.জি. কর হাসপাতালে। করুনাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বি আর সিং হাসপাতালে। বর্তমানে দু’জনেই ওই দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।নিউজ এক ঝলকে
রেল যাত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে জখম আরপিএফ কর্মী
95%

















