রেমালের তান্ডবে বিধ্বস্ত সন্দেশখালি
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী রবিবার রাতে শুরু হয় ‘রেমাল’ ঘুর্ণিঝড় এর তান্ডব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘রেমাল’ এর দাপটে রায়মঙ্গল নদীর বাঁধ বসে যায়, গাছ, ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে ঘটে বিপত্তি। যান চলাচলে ঘটে বিঘ্ন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি থেকে এমনই চিত্র ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। ‘রেমাল’ এর তান্ডবে সন্দেশখালির টকতলায় প্রায় ৭০০ ফুট নদী বাঁধ বসে যায়। নদীর নোনা জল যাতে চাষের জমি, ভেরিতে না ঢুকতে পারে তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি সবকিছুকে উপেক্ষা করে বাঁধ মেরামতির কাজে হাত লাগায় স্থানীয়রা। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে হাসনাবাদ ২ নম্বর ব্লকের লেবুখালি রোডে উপড়ে পড়ে একাধিক গাছ। ফলে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বরূপকাঠি বাজার, আমবেড়িয়া, বাঁকড়া বাজারে একাধিক ইলেকট্রিক পোস্ট ভেঙে গেছে। ১১ হাজার ভোল্টের ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে যাওয়ায় এলাকা একেবারে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্বরূপকাঠির কাছে রাস্তার পাশে থাকা একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয় বাড়ি। খবর পাওয়া মাত্রই বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীরা সেখানে পৌঁছে গাছটিকে দ্রুত সরানোর চেষ্টা করে। সেখানে গাছের সঙ্গে দুটো ইলেকট্রিক পোস্টও ভেঙ্গে পড়ে। উপড়ে পড়া গাছটি কাটার সময় এক বিপর্যয় মোকাবিলা কর্মী বৈদ্যুতিক তারের আঘাতে জখম হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। লেবুখালি রোডেও গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের ফলে আতা পুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রায়মঙ্গল নদী ও মনিপুরের একাধিক জায়গায় থাকা নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলস্বরূপ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। দক্ষিণ হিঙ্গলগঞ্জ অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে পানীয় জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আতঙ্কে নদী তীরবর্তী গ্রামের কিছু সংখ্যক মানুষ ঘর ছেড়ে রবিবার থেকেই ওই ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
রেমালের তান্ডবে বিধ্বস্ত সন্দেশখালি
0%

















