রামকৃষ্ণ- তৃণমূল স্লোগানে ভাইরাল তৃণমূল
দাবদাহ লাইভ, অক্ষয় গুছাইতঃ একুশে জুলাই শহীদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে কর্মীদের চাঙ্গা করতে স্লোগান দিচ্ছিলেন সভানেত্রী। স্লোগানের প্রথম অংশ বলছিলেন মমতা ব্যানার্জি আর শেষের অংশে তৃণমূল বলে গলা মেলাচ্ছিলেন কর্মীরা। এভাবে মমতা বলেন, রামকৃষ্ণ । তখন মঞ্চ থেকে কেউ একজন বলে ওঠেন তৃণমূল। সঙ্গে সঙ্গে মমতা ব্যানার্জি স্লোগান দেওয়া বন্ধ করে দেন। বিষয়টি ভুল হয়ে গেছে বুঝতে পেরে তিনি রামকৃষ্ণের দেখানো পথে চলার কথা বলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই অংশের ভিডিও আপলোড করে কটাক্ষ করতে শুরু করেন নেটিজনেরা। সুযোগ বুঝে আসরে নামে বিরোধীরাও । বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ী বলেন “সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র মাকালী সম্বন্ধে যে কথা বলেছিলেন, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্মল মাজি মমতা ব্যানার্জিকে মা সারদার সঙ্গে তুলনা করেছেন। শুধু তাই নয় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ভগিনী নিবেদিতা এবং রাণী রাসমণির সঙ্গেও তুলনা করা হয়েছে। আসলে উনি চাটুকারিতা পছন্দ করেন তাই কারও বিরুদ্ধে উনি কোনও পদক্ষেপ করেননি।” তিনি আরও বলেন “আত্ম অভিমানে ভুগতে ভুগতে উনি নিজেই শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসকে তৃণমূল দলের অন্তর্গত করে ফেলেছেন।” অন্যদিকে বামফ্রন্টের সুজন চক্রর্তী বলেন ” রামকৃষ্ণ বলেছিলেন টাকা মাটি, মাটি টাকা। কেন রামকৃষ্ণকে তৃণমূল বললেন আমি জানি না। হয়তো মাটি, বালি পাচারের টাকার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী । তাই রামকৃষ্ণকে তৃণমূল বলে ফেলেছেন। ২১ জুলাই শহীদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে রাজ্যসভার বাম সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক কালে রাজ্যে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। অধিকাংশ মামলায় চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারকে খোঁচা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সিপিএমের আমলে আমি অনেকের কাছে শুনেছি দশ থেকে পনেরো লক্ষ টাকায় এক একটি চাকরি বিক্রি হয়েছিল।” 
মুখ্যমন্ত্রীর এ-হেন কটাক্ষের জবাবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমার একটা নির্দিষ্ট প্রস্তাব আছে। একটা তদন্ত কমিটি হোক যার চেয়ারপার্সন হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে ওই সংক্রান্ত রিপোর্ট এই রকম একটি পাবলিক মিটিংয়ে জানিয়ে দিন। আমি এক হাঁড়ি রসগোল্লা খাওয়াব। আর যদি না পারেন পাগলা গারদে চলে যান। এই প্রস্তাবে রাজি আছে ওরা বা তৃণমূলের কেউ? আমার কোনও আপত্তি নেই। আমি পরিস্কার বলছি, প্রকাশ্যে মানুষকে রিপোর্ট দিক। যদি না পারেন ১৫ দিনের মধ্যে পাগলা গারদে জায়গা হওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এইসব লোকেদের পিছনে মানহানির মামলা করে সময় নষ্ট করব কেন? যাদের কথার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। যে কথার কোনও মৌলিক সততা নেই, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে গুরুত্ব বাড়াব কেন?”
























