রহড়া উত্তরপাড়ায় বার্ডসের শুভ বিজয়া সম্মেলন
দাবদাহ লাইভঃ মহাসমারোহে পালিত হল রহড়া উত্তর পাড়ায় নবনির্মিত ভবন সানসেট বার্ডস এর পরিচালনায় শুভ বিজয়া দশমী সম্মেলন ২০২২। শুভ সন্ধ্যার প্রাক্কালে অর্থাৎ ঠিক পাঁচটায় শুরু হয় শুভ বিজয়া সম্মেলনের মহোৎসব। অর্থাৎ সকল সভ্য এবং সভ্যা বৃন্দদের এক মিলন উৎসব। এই সংস্থাটি শুধু সকল অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা। বৃদ্ধ বয়সে অর্থাৎ জীবনের অন্তিম লগ্নে মানুষের একটি নির্দিষ্ট জায়গার দরকার হয় আর এটি এমন একটি জায়গা তাঁরা তৈরি করেছেন, যেখানে জীবনের সন্ধ্যায় সকলে এক জায়গায় মিলিত হয়ে সেখানে গান বাজনা নৃত্য আবৃত্তি কবিতা এসব নিয়েই বেঁচে থাকতে পারেন। বাইরে কোথাও যেতে হবে না তাঁরা নিজস্ব বিশাল একটি বিল্ডিং এরও ব্যবস্থা করে নিয়েছেন যেটা যৌথভাবে রয়েছে নাদ ব্রহ্ম সংগীত সেবাশ্রম এবং রহড়া সানসেট বার্ডস এর যৌথ পরিচালনায়। না দেখলে বিশ্বাস করাই যাবে না যে জীবনের অন্তিম লগ্নে মানুষ যে সুস্থ সরল এবং সুন্দরভাবে আরো দীর্ঘদিন বাঁচতে চায় তারই একটি সুন্দর প্রয়াস। আর এই পড়া শুরু হয় ১৪ ই অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পাঁচটা থেকে যেখানে ছিল আবৃত্তির নিত্য কবিতা সংগীত গিটার সবকিছুরই বিশেষ আয়োজন তারই ফাঁকে ফাঁকে চলছিল শুভ বিজয়া পরস্পরের মধ্যে আলিঙ্গন কোলাকুলি এবং পরস্পরের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। সান্ধ্য বিজয়ের সম্মেলনের ভিতর সকলের উদ্দেশ্যে স্বাগত ভাষণ দেন ক্লাব সম্পাদক সঞ্জয়শীল মহাশয়। বহু বিশিষ্ট সমাজের উচ্চ স্তরের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিত্বদের মিলনস্থল এই রহড়া সানসেট বার্ডস। এখানে শুধু শিক্ষণীয় আলোচনা ও বিভিন্ন ধরনের জানা-অজানা কথা পরস্পরের মধ্যে আলোচনার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত প্রতি সময়।
আর এই বিজয় দশমীর উপলক্ষে এখানে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিজয়ের সম্মেলন অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সার্থক হয়ে ওঠে সকলের সমাগমে। অর্থাৎ শুধু যে বয়স্ক মানুষেরই আগমন তা নয।় বিজয়া সম্মেলন মানে সকল বয়সের সকল মানুষের একত্রিত হওয়ার জায়গা এখানে। এই মুহূর্তে এখানে কোন বাইরের মিউজিসিয়ান বা গায়ক গায়িকা ভাড়া করে আনা হয়না ক্লাবেরী যারা সদস্য এবং সদস্যা তাঁরাই সব কিছুতেই পারদর্শী। তাঁদের মনে যে এখনো যৌবনের বা তারুণ্যের ছোঁয়া রয়েছে সেটাই বহিঃপ্রকাশ হয় তাঁদের গুনের মাধ্যম দিয়ে। শুধু তাই নয়, সকলেই আবৃত্তি কবিতা সংগীত বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যম দিয়ে প্রকাশ করেছেন সমগ্র দর্শক সম্মুখে।
লিখে এ কাহিনী শেষ করা যাবে না তবুও খবরের মাধ্যমে যতটুকু পারি সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করছি, লেখনীর মাধ্যম দিয়ে। এরই ফাঁকে শিশু শিল্পী তার ক্লাসিক্যাল গান পরিবেশন করে সকলকে অবাক করিয়ে দিয়েছিল বই কি? এছাড়াও এখানে ছিলেন অনেক প্রবাসী বাঙালি, যারা লন্ডন আমেরিকা ফ্রান্সিসকো ইউক্রেন বেগিং এ বসবাস করেন। তারাও ছুটিতে এসেছেন এই খড়দহ পলতা ব্যারাকপুর সোদপুরের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের বাড়িতে পুজোর ছুটিতে এসেছেন তারাও এক ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত এবং সম্পাদকের আমন্ত্রণে একসঙ্গে মিলিত হয়েছেন। বিশেষ সম্মানীয় অতিথি ছিলেন প্রথিতযশা বাচিক শিল্পী আরণ্যক বসু। তিনি সকলের সম্মুখে তার দু-চারটি কবিতা ও আবৃত্তি স্বরচিত পাঠ করে সকলের অন্তরে পৌঁছে যান। উপস্থিত ছিলেন সম্মানীয় অতিথি রহড়া পিজিবিটি কলেজের কৌশিক চট্টোপাধ্যায় অধ্যক্ষ, উপস্থিতি ছিলেন রহড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আরক্ষা আধিকারিক দেবাশীষ সরকার, আনন্দ রায় বিশিষ্ট সমাজসেবী রহড়া যিনি খরদা পৌরসভা কে p7 মেশিন উপহার দিয়েছেন যেই মেশিন মৃত মানুষকে বহুদিন পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে রেখে দেওয়া যায এমনই বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আছেন সকলের নাম তুলে ধরা সম্ভব হয়েও ওঠে না বা পরিচিতি দিয়ে শেষ করা যায় না। এমনিতেই খড়দহ একটি সুশিক্ষিত এবং হ্যাবি ওয়েট দের বাসস্থান এবং দেব দেবীদের আবাসভূমি। সুতরাং সব দিক থেকেই খড়দহ বা রহড়া একটা অন্য জায়গায় অবস্থান করে।
এবারে আসা যাক সম্মানীয়দের হাতে পুষ্পস্তবক উত্তরীয় এবং মেমেন্টো তুলে দেন ক্লাবের পক্ষ থেকে সম্পাদক সঞ্জয় শীল মহাশয়। তন্মধ্যে বিশিষ্ট কবি অর্ণব বসু রহড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার দেবাশীষ সরকার এবং রহড়া পিজি বি টি কলেজের অধ্যক্ষ কৌশিক চট্টোপাধ্যায় এবং সমাজসেবী আনন্দ রায় মহাশয়ের হাতে। আরণ্যক বসু বিশিষ্ট সাহিত্যিক এবং কবি তিনি মেমেন্টো এবং উত্তরীয় তুলে দেন রহড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার দেবাশীষ সরকার এর হাতে। এছাড়াও আনন্দ রায় বিশিষ্ট সমাজসেবী তাকেও যথাযোগ্য সম্মানে ভূষিত করেন ক্লাব সম্পাদক সঞ্জয়শীল মহাশয় ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রানা মুকুটী মহাশয়।
খুব ভালো একটি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন রহড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার দেবাশীষ সরকার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যেমন সমাজে অসহায় নিপীড়িত যদি কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধ বাবা-মা সন্তান-সন্ততীর দ্বারা নিপীড়িত হন তৎক্ষণাৎ তার ব্যবস্থা এবং যেসব পরিবার আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া এমন রয়েছেন তাদের তাদের সংস্থা থেকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন এবং যেসব বয়স্ক মানুষ বা ব্যক্তিগণ বিভিন্ন রকম ভয়ে কিংবা মানসিক যন্ত্রণায় ভোগেন তাদের পাশে সর্বক্ষণ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি সংস্থা তৈরি করেছেন যার নাম দেওয়া হয়েছে “অর্পণ”, এমন অভিনব উদ্যোগকে উপস্থিত সকলের করতালিতে মুখরিত করে তোলে। এমন ধরনের সুউচ্চ মনোভাব দেখালেন রহড়া থানার আইসি দেবাশীষ সরকার এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর আনন্দ রায় ও জনৈক আর একজন পুলিশ আধিকারিক এবং তৎসহ বিশ্বজিৎ বসু পিসি পার্টির বড়বাবু। আর এইসব সহযোগিতা পাওয়ার জন্য তিনি একটি ফরমের ও ব্যবস্থা করেছেন যেখানে সবরকম নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার দিয়ে ও সংস্থার মেম্বার হবার জন্য।
শুধু তাই নয় বিশিষ্ট অতিথিবর্গের মধ্যে সকলে উপস্থিত থাকলেও এরই মধ্যে শ্রুতি নাটক এবং মন কেড়ে নেওয়া বিভিন্ন ধরনের সংগীত পরিবেশিত হয় শুভ বিজয়া উপলক্ষে। এরই মধ্যে যাদের নাম না বললেই চলে না তাঁরা হলেন, পার্থ ভট্টাচার্য মহাশয়, কার্তিক ভট্টাচার্য মহাশয় , স্বপন চক্রবর্তী মহাশয়, বনকুমার রায় মহাশয়, সত্যেন কুমার দাস মহাশয়, রানা মুকুটী মহাশয় এছাড়াও আরো বহু ব্যক্তিত্বগণ। সকলকেই আতিথেয়তা এবং মিষ্টি সিঙ্গারা চা বিস্কুট লজেন্স পর্যাপ্ত পরিমাণে বিতরণ করা হয়। এক মিলনক্ষেত্র মনে রাখার মতোই। বারবার প্রতিবার ফিরে আসুক এই শুভ বিজয়া দশমীর মিলন মেলা। এছাড়াও প্রতিবেশী গুড্ডু বাবুকে ও অসংখ্য ধন্যবাদ এই কারণে তাঁর সবরকম সহযোগিতার জন্য।
( তথ্য ও ভিডিওগ্রাফি : শ্যামল কর, সাংবাদিক )









