মৃত স্বর্ণশিল্পীর দেহ ফিরছে শোক-বিহ্বল গ্রামে মালতীপুরে
দাবদাহ লাইভ, মালদা, তন্ময় মাহারাঃ সংসারে নিত্যদিনের অভাব। এলাকায় কোনো কাজ না পেয়ে পরিবারের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোগাতে ঘর ছেড়েছিলেন মালদা জেলার মালতীপুরের এক স্বর্ণশিল্পী। শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বাইয়ে। সেখানে স্বর্ণশিল্পীর কাজও জুটেছিল। কাজ করা কালীন একদিন অসুস্থ হয়ে পড়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থা অবনতি হওয়ায় বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা চলে। তবুও রক্ষা হলোনা। গতকাল মৃত্যু হয়েছে ওই স্বর্ণশিল্পীর। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। চাঁদা তুলে ঘরে ফিরছে দেহ। পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন বিধায়ক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালতীপুর বিধানসভার গঙ্গা দেবী পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ঈশ্বর মন্ডল(৩৮)। তার সংসারের অভাব অনটনের স্পষ্ট ছাপ। বৃদ্ধ বাবা স্ত্রী ও দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার। তার উপর শরীরে বাসা বেধেছে ভয়ানক অসুখ। ভুগছিলেন কিডনি জনিত সমস্যায়। একদিকে সংসার চালানোর অর্থ অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ দু দিকে সামালাতে হিমশিম খেতে হতো নুন আনতে পান্তা ফুরানোর পরিবারকে। শেষমেষ সংসারের হাল ফেরাতে পাড়ি দেন মুম্বাইয়ে। মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা থেকে শুরু করে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানরা। ঝর্ণা মন্ডল ও দুই নাবালক ছেলে মেয়ে অনামিকা মন্ডল ও অঙ্কুশ মন্ডল। কি ভাবে সংসার চালাবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। এমনকি কিভাবে গ্রামে দেহ ফিরবে তা নিয়েও চিন্তিত। তবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। চাঁদা তুলে যুদ্ধ কালীন তৎপরতায় ফিরছে শ্রমিকের কফিন বন্দি দেহ। ইশ্বরের শেষ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার সহ প্রতিবেশীরা। পাশাপাশি বুধবার মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি। আর্থিকভাবে পরিবারটিকে তিনি সাহায্যও করেন। এছাড়াও পরিবারটিকে সব রকম সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক। জাতীয় পরিবার সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আনা যায় কিনা সেটি দেখছেন চাঁচল-২ নং ব্লকের বিডিও দিব্যজ্যোতি দাস।
নিউজ এক ঝলকঃ
নিউজ ছবিতে এক ঝলকঃ





























