মদের আসরে ক্রূদ্ধ খুনি গ্রেফতার
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ মদের আসরে স্ত্রীকে কটূক্তি করায় সহকর্মীর হাতে খুন হয় এক ব্যক্তি। সকালবেলা কর্মস্থলে যোগদান না করায়, কর্মীর বাড়িতে ছুটে যান মালিক। ঘরের ভিতরে কর্মীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে, থানায় খবর দেন তিনি। দেহটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে নেমে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত চালতাবেড়িয়া এলাকার ঘটনা। সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্পর্শ নীলাঙ্গি। পুলিশ সুপার জানান, চালতাবেড়িয়ার ‘দত্তপুকুর সুইটস-এর কর্ণধার বিক্রম সাহা রোজ খুব সকালেই তাঁর দোকানটি খোলেন। কর্মীরাও সকালেই হাজির হয় দোকানে। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার সকালেও তিনি দোকান খোলেন। ক্রেতাদের শুভাগমন শুরু হয়। কিন্তু এদিন সকাল গড়াতে থাকলেও দু’জন কর্মীর দেখা নেই। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ায়, তিনি কর্মী পরিতোষ পান্ডের বাড়িতে যান। পরিতোষ মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে চালতাবেড়িয়ায় থাকতো। হাঁক দিতে দিতে কর্মী পরিতোষের গৃহে প্রবেশ করতেই তাঁর চক্ষু একেবারে চড়কগাছ। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে রয়েছে তাঁর কর্মী। এরপর তিনি দত্তপুকুর থানায় খবর দেন। চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। এরপরই তাঁর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে নামে পুলিশ। দোকানের মালিক মারফত এদিন অনুপস্থিত আর এক কর্মীর কথা জানতে পেরে সন্দেহ হওয়ায়, তাঁর নাম ঠিকানা নিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। শেষমেশ পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী এলাকায় হানা দিয়ে সহকর্মী বিশ্বজিৎ দাসকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতেই রহস্য উন্মোচন হয়। পুলিশি জেরার মুখে সে সহকর্মীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জানায়, পরিতোষ ও বিশ্বজিৎ খুব ভালো বন্ধু। তাঁরা দু’জন ২৪ তারিখ রাতে পরিতোষের বাড়িতে মদ্য পান করতে বসেছিল। সেখানে কথোপকথন চলার মাঝে পরিতোষ আচমকা বিশ্বজিৎ এর স্ত্রী র সম্পর্কে কটূক্তি করে বসায় বাকরুদ্ধ হয় বিশ্বজিৎ। ক্রোধ সম্বরণ করতে না পেরে সে নিজেই তাঁর সহকর্মী পরিতোষের মাথায় কিছু দিয়ে আঘাত করে। সাথে-সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকে পরিতোষ। এরপর ঘরে থাকা একটি বঁটি দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে। মাথায় আঘাত করা ভারী জিনিসটি পুকুরে ফেলে, দ্রুত ওই স্থান পরিত্যাগ করে সে। পুলিশের ভয়ে সোমবার সকালেই সে চলে যায় বর্ধমান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না তাঁর। শেষমেশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সে। ঘটনাস্থল থেকে বঁটিটি উদ্ধার করে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে দত্তপুকুর থানার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। ধৃতকে সাথে নিয়ে ভারী অস্ত্রটি উদ্ধার এর প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানায় পুলিশ।
মদের আসরে ক্রূদ্ধ খুনি গ্রেফতার
0%

















