ভাঙড়ে আবারও বোমা বিস্ফোরণে আহত-৩
দাবদাহ লাইভ, ভাঙড়, সজল দাশগুপ্তঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ভাঙড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঝলসে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। বোমা বাঁধতে গিয়ে এই বিস্ফোরণ বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। আহতদের কারও হাত, পা, কারও মুখ, কারও শরীরে বীভৎসভাবে পুড়ে গিয়েছে। নির্বাচনপর্ব চলাকালীন একই দিনে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিনজন খুন হন। ভোটের গণনার দিন কাঠালিয়া হাইস্কুলের বাইরে মুড়ি মুড়কির মতো বোমা পড়েছিল। পুলিশ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল সেই রাতে। ওই রাতেই আবারও গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন তিনজন। এবার বোমা বাঁধার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার চকমরিচা বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। তিনজন গুরুতর আহত হন। আহতরা একটি গাড়িতে কলকাতার পথে রওনা দেন। কলকাতার লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ বাসন্তী হাইওয়ের কাঁটাতলা এলাকায় গাড়িটি আটকায়। এরপরই গাড়ির ভিতরকার ভয়াবহ দৃশ্য দেখে চোখ কপালে ওঠে সকলের। ওই গাড়ির চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর আহতদের কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। পুলিশ, কেন্দ্রীয়বাহিনী এখনও মোতায়েন রয়েছে ভাঙড়ে। অথচ তারপরও এমন ভয়াবহ ঘটনা। তৃণমূলের অভিযোগ, আহতরা আইএসএফ কর্মী। তাঁরা বোমা বাঁধছিল বলেও অভিযোগ অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। যদিও চকমরিচা গ্রামের কোনও মানুষজন এবিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। অধিকাংশ বাড়িতে তালা ঝুলছে। এ যেন শ্মশানের নীরবতা। এ-বিষয়ে আইএসএফের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি জানান , আমার কাছে এখনও এরকম কোনও খবর নেই। তারপরও বলব আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বোমা-বারুদ-গুলি বিহীন রাজনীতিই আমাদের লক্ষ্য। কী হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। আরও একটা বিষয় বলা হচ্ছে, বোমা বাঁধতে গিয়ে ঝলসে গিয়েছে। তা বাঁধতে গিয়ে ঝলসে গিয়েছে, নাকি বোমা মারা হয়েছে তাতে ঝলসেছে তাও দেখা দরকার বলে মন্তব্য করেন। তৃণমূলের বিধায়ক শওকত মোল্লার কথায়, চকমরিচা গ্রামে বোমা বাঁধতে গিয়ে তিন জন আইএসএফ কর্মী আহত হয়েছে। গ্রামের লোকজন কাঁটাতলায় তাঁদের ধরে ফেলে। এরপর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। পুলিশের কাছে প্রশ্ন, কীভাবে আইএসএফের কর্মীরা এখনও বোমা বাঁধছে? আর নওশাদ সিদ্দিকিকে বলব, কোথা থেকে উনি এত বোমা, বন্দুক সাপ্লাই দিচ্ছেন উত্তর দিন। এই উত্তর আমরা চাই।








