ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সন্তোষপুর রেল স্টেশন চত্বরে
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ সাত সকালে স্টেশন চত্বরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। পূজোর মরশুমে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কিছু দোকান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সন্তোষপুর রেল স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকার ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৭টা নাগাদ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া দোকানে আচমকা আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আতঙ্ক ছড়ায় স্টেশন চত্বরে। স্থানীয় মানুষজন তড়িঘড়ি আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগানোর পাশাপাশি, দমকলে খবর দেয়। খবর পেয়ে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের বেশ কয়েকটি ঝুপড়িতে আগুন লেগে ভয়াবহ আকার নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলের আরও দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। দীর্ঘ দু’ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কিছু দোকান। দমকলের ৪টে ইঞ্জিন একসাথে না আসায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এদিন সাত সকালে অমন বিধ্বংসী আগুন লাগায় উঠেছে প্রশ্ন। বড়সড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশও করছেন রেলযাত্রীরা। তবে এদিন রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে শিয়ালদহ-বজবজ রুটে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই মুহূর্তে শিয়ালদহ-বজবজ শাখায় আপ ও ডাউন ট্রেন চলছিল মাঝেরহাট পর্যন্ত। স্বভাবতই বিস্তর সমস্যায় পড়েছিলেন নিত্যযাত্রীরা। বজবজ থেকে কলকাতা যাওয়ার সহজ যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পরিগনিত হয় ওই রেলপথ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেটা বন্ধ থাকায় ঘুর পথে যেতে হয় যাত্রীদের। সামগ্রিক পরিস্থিতির জন্য রেলের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছে যাত্রী সাধারণ। এদিনের ঘটনায় প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া ঝুপড়ি দোকানগুলিতে কোনও দাহ্য পদার্থ মজুদ ছিল। আর তার থেকেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক অনুমান দমকল আধিকারিকদের। তবে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আগুন লাগার আসল কারণ জানা যাবে বলে জানায় দমকল ও পুলিশ আধিকারিকরা। এ প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিপিও একলব্য চক্রবর্তী জানান, রেলস্টেশন সংলগ্ন দোকানগুলো যে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হয়েছে। তা পূর্বেই চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের তরফে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সন্তোষপুর রেল স্টেশন চত্বরে
0%

















