বৌমাকে হত্যার অভিযোগে ধৃত কাকা শ্বশুর
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ পারিবারিক বিবাদের জেরে ধারালো অস্ত্রাঘাতে বৌমাকে হত্যার অভিযোগ ওঠে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে এলাকায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নদীয়া জেলার তেহট্ট মহকুমার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত গোপীনাথপুর পঞ্চায়েতের কৃষ্ণনগর এলাকার ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর পূর্বে স্থানীয় উত্তম বিশ্বাস নামে এক যুবকের সঙ্গে ২৭ বছরের শম্পা বিশ্বাসের বিয়ে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত উত্তমের সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ চলছিল তাঁর কাকা ৫৭ বছরের সুফল বিশ্বাসের। শুক্রবার পুনরায় সেই বিবাদ চরমে ওঠে। আচমকা সুফল বিশ্বাস একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে শম্পার দিকে তেড়ে যায় এবং অস্ত্রের কোপ বসায় বৌমার গলায়। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শম্পা। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় শম্পাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশীপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই ঘটনার পর থেকে নিঁখোজ ছিল অভিযুক্ত কাকা শ্বশুর। ঘটনার খবর পেয়ে পলাশীপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ও পরিবারের লোকজনদের সাথে কথা বলে। পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শনিবার সকালে বাড়ির অদূরে থাকা একটি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শম্পার এহেন মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর স্বামী অভিযুক্তের কঠিন শাস্তির দাবিতে জানান। পরিবার পরিজন সহ স্থানীয়রা অভিযুক্তর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। মৃতার দেওর অনুপ বিশ্বাস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই অশান্তি চলছিল। এদিনও ছিল তার রেশ। দু এক কথা চলতে চলতে আচমকাই কাকা ঘর থেকে দা নিয়ে এসে বৌদির গলায় বসিয়ে দেয়। বাড়ির লোকজনই বৌদিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সবাইকে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি, পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে পলাশীপাড়া থানার পক্ষ থেকে ধৃতকে তেহট্ট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।
বৌমাকে হত্যার অভিযোগে ধৃত কাকা শ্বশুর
0%

















