বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস দিচ্ছে ডাক ২৫ অগাষ্ট বারাসাত যাক
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, নিলাদ্রি ভট্টাচার্যঃ বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস দিচ্ছে ডাক ২৫ অগাষ্ট বারাসাত যাক। ২০ জুন ২০২২ তারিখ ছিল বিশ্ব উদ্বাস্তু দিবস। আজও সমগ্র পৃথিবীতে উদ্বাস্তু এক জ্বলন্ত সমস্যা। প্রায় প্রতিদিন সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হচ্ছেন তা সে রাজনৈতিক কারণ হোক বা অর্থনৈতিক কারণ কিংবা প্রাকৃতিক কারণে অথবা অন্য কোনও কারণে তারা তাদের ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়ে উদ্বাস্তুর জীবন যন্ত্রনা ভোগ করছেন। উদ্বাস্তু হওয়াটা কোনও শখের বিষয় নয়, এটা একটা চরম নিষ্ঠুর বাস্তব। ইউক্রেনের যুদ্ধে কত মানুষ যে এপর্যন্ত উদ্বাস্তু হয়েছেন তার হিসাব আজ আমাদের কাছে নেই। মানুষ হয়ে জন্মেও পৃথীর বুকে যাদের আজ ও কোনও নির্দিষ্ট স্থায়ী বাসস্থান নেই তেমনই এক গোষ্ঠীর নাম রোহিঙ্গা। এই ছিন্নমূল মানুষের পাশে থেকে যুগযুগ ধরে কিছু সংগ্রামী মানুষ ও সংগঠন লড়াই আন্দোলন করে তাদের এই পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার অধিকার প্রতিষ্টা করেছে। এমনি একটি সংগঠন গড়ে উঠেছিল। ১৯৫০ সালে যার নাম UCRC বা সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বস্তুহারা পরিষদ। এই সংগঠনের প্রথম প্রতিষ্টাতা সম্পাদক ছিলেন বামপন্থী আন্দলনের অন্যতম নেতৃত্ব সর্গিও অম্বিকা চক্রবর্তী। দেশ ও রাজ্যের নানান ছোট- ছোট সংগঠন গুলি রাজনীতির উর্ধে উঠে ছিন্নমূল মানুষের মর্মযন্ত্রণার অবসান ঘটাতে সমবেত হয়ছেলি এই UCRC র পতাকা তলে। এই বৃহত্তর হাবড়া- অশোকনগরের যে শতাধিক কলোনি গড়ে উঠেছিল, তাদের লড়াই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এতদাঞ্চলের লড়াকু বাম আন্দলনের নেতা শ্রদ্ধেয় ননী কর এবং যারা তাকে যোগ্য সহযোগিতা করেছিলেন তারা হলেন প্রয়াত কালীপদ সরকার ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রী শিব ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সেই আন্দলনের ফলস্বরূপ এই সকল কলোনিগুলির বেশিরভাগ মানুষ পেয়েছেন এক খন্ড জমির পূর্ণ মালিকানা। যদিও বর্তমান শাসক দলের সদিচ্ছার আভাবে এখনো বহু উদ্বাস্তু তাদের দলিল বা পর্চা কোনোটাই পাননি,আর যদিওবা কেউ পেয়ে থাকেন সেটা পেয়েছেন অতিরক্ত টাকার বিনিময়ে এবং যে দলিল তারা পেয়েছে সেটাও কায়েমী সত্ত্বের পরিবর্তে দখলি সত্ত্বের দলিল যা তাদের ভবিষ্যাতে বিপদে ফেলতে পারে। এখনো ভয়াবহ উদ্বাস্তু সমস্যা থাকা সত্যেও এই সরকার পুনর্বাসন দফতরটাই তুলে দিয়ে সেটা বর্তমানে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের সাথে জুড়ে দিয়ে উদ্বাস্তু সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অন্য দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশের মাধ্যমে (বাজপেয়ী সরকারের আমলে) উদ্বাস্তু জনগণকে নতুন করে অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সমস্ত উদ্বাস্তু মানুষকে রাষ্ট্রহীন, বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেছে, যার জ্বলন্ত উদাহরণ অসম যেখানে ইতিমধ্যে NRC র পর 19 লক্ষের ও বেশি মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্ন চিহ্নের সামনে পড়েছে। বাংলার উদ্বাস্তুদের মধ্যে একটি বৃহৎ অংশ হলো ছিন্নমূল নামশুদ্র সম্প্রদায় এবং তার বৃহত্তম অংশ হলো মতুয়া সম্প্রদায়। এই ছিন্নমূল সম্প্রদায়ের মানুষদের আজ ও সম্পূর্ণ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় নি। এদের বেশিরভাগ অংশ শিক্ষার আলো না পাওয়ায় তাদের সঙ্গে সুপরিকল্পিত ভাবে প্রতারণা করে চলেছে বর্তমান শাসক দল। তাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে তাদের ভোট ব্যাঙ্ককে নিজেদের দিকে টানতে সফল হচ্ছে শুধুমাত্র ঠাকুরনগরের ঠাকুর বাড়ির বদান্যতায়। একটি রাজনৈতিক দল ঠাকুর বাড়ির একজনকে কিনে নিয়েছে অস্থায়ী ভাবে কিছু টাকার প্রলোভন দেখিয়ে, অন্য আর একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে কিনতে সক্ষম হয়েছে আর একজনকে যে মতুয়াদের আর একটি অংশকে NRC,CAA এমন কি NPR এর ভয় দেখিয়ে নিজের দিকে টানতে সক্ষম হচ্ছে। এমতাবস্থায় UCRC সংগঠনকে শক্তিশালী করে ঝাপিয়ে পড়েছে তাদের লড়াই সংগ্রামে। UCRC মনে করে, সঠিক ভাবে মানুষের মর্ম যন্ত্রণার অবসান এখনো হয়নি। নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে জটিলতা রয়ে গিয়েছে, পুনর্বাসনের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে. সরকারি অনূমোদনহীন কলোনিতে, রেল লাইনের ধারে ঝুপড়িতে অসংখ্য বাস্তুহারা মানুষ দীর্ঘ বছর ধরে আজও দিন যাপন করছে। এই সব বঞ্চিত মানুষদের অধিকার প্রতিষ্টার জন্য প্রয়োজন যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা তা শাসক শ্রেণীর নেই. এই অবহেলিত, প্রতারিত মানুষকে সঙ্গবদ্ধ করে দাবি অর্জনের লড়াইয়ের পথে পরিচালিত করার ঐতিহাসিক দায়িত্ব UCRC র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক মধু দত্ত এবং উত্তর চব্বিশ পরগনার সাধারণ সম্পাদক চারন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সকল উদ্বাস্তুসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে আবেদন রেখেছেন আগামী ২৫/০৮/২০২২২ তারিখে উত্তর 24 পরগনার DM এর কাছে দাবি পেশ সহ অবস্থান কর্মসূচি সফল করার।























