বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধে রাজনৈতিক চাপানউতোর
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, কলকাতাঃ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। প্রায়শই ধরা পড়ে ঘটে যাওয়া নানান অপ্রীতিকর ঘটনা। এরই মধ্যে ঘটে এক বিজেপি নেতাকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্রের ঘটনা। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গুলিবিদ্ধ ওই নেতা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এহেন ঘটনায় উত্তেজনার পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এ ঘটনায় তৃনমূলকে দায়ী করেছে বিজেপি। যদিও পুরানো শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা বলে পাল্টা দাবি করেছে তৃণমূল। বুধবার সকাল ৮ টা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহকুমার গঙ্গাসাগর উপকূল থানার অন্তর্গত শ্রীধাম ও গঙ্গাসাগর বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত ওই বিজেপি নেতার নাম ত্রিলোকেশ ঢালি। মথুরাপুর সংগঠনিক জেলা কমিটির প্রাক্তন সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। বর্তমানে বিজেপিরই একজন সক্রিয় কর্মী হিসাবে পরিচিত। জানা যায়, এদিন সকালে বাইক চালিয়ে তিনি রওনা দেন দলেরই এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবার উদ্দেশ্যে। সকাল ৮ টা নাগাদ গঙ্গাসাগর ও শ্রীধাম বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা বাইকে চেপে আসা দুজন দুষ্কৃতি তাঁর বাইকের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত বাইক নিয়ে এলাকা পরিত্যাগ করে তাঁরা। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলে পড়ে যান ত্রিলোকেশ। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে সাগর উপকূল থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, বুকে গুলি লেগেছে তাঁর। কি কারণে হামলা চালানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে পুরানো কোনও শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের অনুমান। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূলই ত্রিলোকেশকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ঘটনার প্রতিবাদে সাগর এলাকায় তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হয়। আক্রান্তের পুত্র ও কন্যা ক্ষোভ উগরে দেয় তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাঁদের কথায়, “তাঁরা বিজেপি করে। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাঁদের পিতার। আর সেই কারণেই শাসকদলের দুষ্কৃতিরা এমন হামলা চালিয়েছে। এক কথায়, শাসকদলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে তাঁদের পিতা।” এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলায় চলছে হিংসার রাজনীতি। জানি না, ত্রিলোকেশের প্রাণ রক্ষা হবে কিনা! তবে আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। ওই থানার ওসিকে বরখাস্ত করার জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাবো। একবার কড়া শাস্তি না দিলে ওদের টনক নড়বে না।” যদিও বিজেপির অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তৃণমূল জানায়, বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথের কথার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ জানায়, তাঁরাও চায় ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। ভোট আসছে বলেই সবকিছু তৃণমূল কংগ্রেস করেছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।
বিজেপি নেতা গুলিবিদ্ধে রাজনৈতিক চাপানউতোর
0%


















