বিচারাধীন সম্পত্তিতে নির্মাণ প্রতিবাদী বৃদ্ধা আক্রান্ত
দাবদাহ লাইভ, স্বরুপনগর, নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোর পূর্বক জমি দখল, প্রতিবাদী আক্রান্ত বৃদ্ধাকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর, আক্রান্ত বৃদ্ধা বিচার চেয়ে পুলিশের দারস্থ। উল্লেখ্য, আদালতে ইনজেকশন জারি থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ। এই নির্মাণ আটকাতে গিয়ে হেনস্থার শিকার পঞ্চায়েত প্রধানের শাশুড়ি। সম্প্রতিকালে চারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামীর টাকা গোনার ছবি ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বরূপনগরে। বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার চারঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাসন্তী বিশ্বাসের স্বামী নিখিল রঞ্জন বিশ্বাসের বান্ডিল বান্ডিল টাকা গোনার ছবি ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় হয়েছিল। টাকা গুনছেন নিখিল বিশ্বাস, সেই ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সেই খবর সম্প্রচার হওয়ার পরেই অবশেষে দেখা মিলল নিখিল বিশ্বাসের। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটা আমার ব্যক্তিগত টাকা। সেই টাকা গুনছিলাম। পার্শ্ববর্তী এলাকার যুবক মাজাহার আলী কিছু যুবককে নিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমার এই টাকা গোনার ছবি ভাইরাল করেছে। তারপরে জোরপূর্বক টেট দুর্নীতির টাকা বলে আমাকে কালীমালিপ্ত করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে প্রধান সহ তৃণমূলকে কালিমালিপ্ত করতে এই ফন্দি এটেছে বলে অভিযোগও করলেন। যদিও মাজাহার আলীর দাবি, প্রাইমারিতে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়ার ছবিই ভাইরাল হয়েছে। অন্যদিকে এদিন সকালে মাজাহার আলী তার দলবল নিয়ে নিখিল বিশ্বাসের বাড়িতে চড়াও হয়। জানা যায়, নিখিল বিশ্বাসের মা সুষমা বিশ্বাস ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তার বাড়ির সামনে থাকা ৬ শতক জমি মাজাহার আলী সহ মোট ৪ জনকে লিখে দেয়। যদিও নিখিল বিশ্বাস দাবি করেন, দলিলে উল্লেখ থাকা ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মাজাহার আলী সহ বাকিরা তার মাকে দেয়নি। পাশাপাশি ওই জমি বিক্রি করার জন্য মাজাহার আলী নিজের ফোন নাম্বার দিয়ে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়। তার পরে নিখিল বসিরহাট মহকুমা আদালতে জমির প্রাপ্য টাকা চেয়ে ও জমি বিক্রি আটকাতে আবেদন করেন। আদালত সেই মর্মে রায় দিয়ে জমিটি কেনা-বেচা ও যে কোন ধরনের নির্মাণের ওপরে বসিরহাট মহকুমা আদালত স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেয়; হেয়ারিং চলছে। কিন্তু নিখিল বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, এদিন সকালে মাজাহার আলী ও তার দলবল গিয়ে নিখিল বিশ্বাসের বাড়ির সামনে ওই ৬ শতক জমির উপরে নির্মাণ কাজ শুরু করে। তারপর আমার মা সুষমা বিশ্বাস সেই কাজে বাধা দিতে গেলে মাজাহার আলী ও তার দলবল তাকে ঘিরে ধরে হেনস্থা করে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এই নিয়ে ৮২ বছরের ঐ বৃদ্ধা স্বরূপনগর থানায় মাজাহার আলী সহ বেশ কিছু যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রশ্ন উঠছে, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও কি করে মাজাহার আলী সেই জমির উপর নির্মাণ কাজ শুরু করলেন? পাশাপাশি একজন বৃদ্ধাকে কেনই বা হেনস্থা করলেন? ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত শুরু করেছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ। একদিকে মাজাহার আলী যখন নিখিল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ করেছেন কিন্তু নিখিল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারিনি, মাজাহার আলী বসিরহাট মহকুমা আদালত স্থগিত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তার দলবল জোরপূর্বক দোতলা বাড়ি সামনে ফাঁকা জমি উপর পাঁচিল দিয়ে নির্মাণকার্য করছেন। অন্যদিকে নিখিল বিশ্বাসের মায়ের কথায় মাজাহার আলীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলায় জমে উঠেছে সীমান্তবর্তী স্বরূপনগরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।








