বারাসাতে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বাড়ির ভগ্ন দশা
দাবদাহ লাইভ, বারাসাত, সুমাল্য মৈত্রঃ বারাসাত হচ্ছে ইতিহাসের শহর,যার সাথে ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। এই শহরে বিভিন্ন সময়ে পদার্পন করেছেন বিখ্যাত বিখ্যাত মনীষীরা। তেমনই কর্মসূত্রে তদানীন্তন ডেপুটি কালেক্টর হয়ে এক সময়ে বারাসাতে এসেছিলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ১৮৭৪-১৮৮২ সাল পর্যন্ত বারাসাতে ডেপুটি কালেক্টর হয়ে ছিলেন তিনি। যে বাড়িতে তিনি আটবছর কর্মরত অবস্থায় ছিলেন আজ সেই বাড়িরই ভগ্ন দশা। বাড়ির চারপাশে গজিয়ে উঠেছে গাছ আগাছা, এমনকি সামনেই জেলা আদালত ও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশাসনিক ভবন। এই বাড়ির অবস্থানও ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসের ঠিক বিপরীতেই; সাহিত্য সম্রাটের এই পদধূলি ধন্য সেই বাড়ি এখন বিভিন্ন বহিরাগত লোকজনদের কাছে হয়ে উঠেছে শৌচালয়। দিকে দিকে এখন পালন করা হচ্ছে বন্দেমাতরম গানের দেড়শো বছর। অথচ বন্দেমাতরম গানের প্রণেতা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির হাল ফেরে না ।এই বাড়ির চারিদিকে রয়েছে বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবন। কিন্ত কারুরই কোনো হেলদোল নেই। এখন প্রতিদিনই সব্জি বাজার বসে এই বাড়ির সামনে আর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার বিভিন্ন সামগ্রী স্তুপাকার করে রাখছে এই বাড়ির সিঁড়িরতে। সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পদধূলি ধন্য ও তার কর্মস্থল এর স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি। চারিদিকে বিভিন্ন বিখ্যাত মনীষীদের বাড়িগুলোকে যখন হেরিটেজ ঘোষণা করে বোর্ড লাগানো হচ্ছে তখন এদিকে তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বারাসাতের কর্মস্থল ও স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি।আদৌও কি হেরিটেজ দপ্তরের হুঁশ ফিরবে? নাকি চুড়ান্ত অবহেলায় হারিয়ে যাবে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা শহর থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়ি। সামনে একটা মূর্তি আর পুরোনো ফলক ছাড়া চেনার উপায় নেই আজ এই বাড়ি। তবে কি ইতিহাসের শহর বারাসাত ইতিহাস ঐতিহ্য বাঁচাতে সচেষ্ট নয়, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বাড়িটা ঘিরে একপ্রকার নীরব।এই ভাবে চললে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পা দেওয়া এই ঐতিহাসিক বাড়ি।
নিউজ এক ঝলকে
বারাসাতে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বাড়ির ভগ্ন দশা
85%

















