Banner Top

বসিরহাটে প্রতিমা নিরঞ্জনে নদীবক্ষেই সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ প্রতিমা নিরঞ্জনের কথা উঠলে প্রথমেই যে স্থানের কথা উঠে আসে তা হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার টাকীর কথা। ইছামতী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন সকলের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা পরিলক্ষিত হয়। এপার ও ওপার বাংলার মানুষেরা এদিন নৌকায় করে প্রতিমা নিয়ে নদীবক্ষে আনন্দে মেতে ওঠেন। এদিন নদীবক্ষে প্রতিমা নিরঞ্জনকে ঘিরে যে আনন্দোল্লাস পরিলক্ষিত হয় তা যেন চোখে পরার মতো। কেবলমাত্র ওইদিন ইছামতী নদীতে প্রতিমা নিরঞ্জন উপলক্ষে দুই বাংলার মানুষ নদীবক্ষেই মিলিত হয়। এ যেন এক অদ্ভুত সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন। টাকীর পাশাপাশি বসিরহাট শ্মশান ঘাটেও একইভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনে মেতে ওঠেন মানুষেরা। ওইরূপ দৃশ্য উপভোগ করার জন্য নদীর পারে কাতারে কাতারে মানুষ ভীড় জমান। আনন্দে মাততে গিয়ে যাতে কোনো দূর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যাবস্থাও করা হয়। নদীতে দীর্ঘ সময় নৌকাবিহারের পর সন্ধ্যা নামতেই চলে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব। কিন্তু প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে এ বছর হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলি থেকে একেবারেই আলাদা চিত্র ধরা পড়ে। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও ওখানে ইছামতী, রায়মঙ্গল ও কালিন্দী এই ৩ টি নদীর মোহনায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দশমীর পর শুক্রবার ছিল প্রতিমা নিরঞ্জনের শেষ দিন। বিসর্জন পর্ব যাতে সুষ্ঠুভাবে সুসম্পন্ন হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। কোন অপ্রীতিকর বা দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে যাতে বিসর্জন পর্ব সমাপ্ত হয় তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য বসিরহাট পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থেকে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লঞ্চে করে নদীতে পেট্রোলিং করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাসনাবাদের এসডিপিও দেবদাস ঘোষ, হাসনাবাদ থানার আইসি কৃষ্ণেন্দু ঘোষ, হিঙ্গলগঞ্জ এর বিডিও শ্বাশত প্রকাশ লাহিড়ী ও হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সহ পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তারা। এদিন প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব দেখার জন্য কোনো যাত্রী বা দর্শক বোঝাই নৌকা নদীতে নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ প্রশাসন। দশমীর পর এদিন কেবলমাত্র ২১ টি প্রতিমা নিয়ে সীমিত কয়েকজন মানুষ সহ ২১ টি নৌকাকে নদীতে নামতে দেখা যায়। তিনটি নদীর মোহনায় অর্থাৎ দুলদুলি, ভান্ডারখালি ও নেবুখালি এলাকার বহু মানুষ ওই তিনটি নদীর পারে বিসর্জন দেখতে উপস্থিত হলেও পুলিশ প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় কেউই এদিন নদীতে নামতে পারেনি। সম্প্রতি মালবাজারে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে গিয়েছে, মুলত সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিনের বিসর্জন পর্ব কার্যত নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় কোনোরকম বিপদ ঘটলে যাতে সাথেসাথেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেই নিরিখে এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে ৮টি জলযান নদীতে নামানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবার জন্য ওই স্থানে অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের একটি দলকে রাখা হয়েছিল। এক কথায় শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের দুলদুলিতে প্রতিমা নিরঞ্জন পর্বকে ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তার প্রস্তুতি ছিল একেবারে তুঙ্গে। এদিন প্রায় হাজার খানেক মানুষ পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে নদীর পারে দাঁড়িয়েই প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব দুচোখ ভরে উপভোগ করেন। শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব এদিন সমাপ্ত হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বসিরহাটে প্রতিমা নিরঞ্জনে নদীবক্ষেই সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন
User Review
0% (0 votes)
Banner Content
Dabadaha is a News Media House under the Brand of Dabadaha Live ( দাবদাহ লাইভ) via Website as WEB NEWS

0 Comments

Leave a Comment