বন দপ্তরের তৎপরতায় কচ্ছপ সহ ধৃত -২
দাবদাহ লাইভ, বনগাঁ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ জানা সত্যেও সেই আইনকে একপ্রকার বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কর্তৃক গোপনে কচ্ছপ বিক্রি ও পাচারের ঘটনা দিনদিন যেন বেড়েই চলেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পূর্বে বহুবার উঠে এসেছে এরূপ ঘটনা। ব্যাতিক্রম হল না এদিনও। গোপন সূত্র অনুযায়ী হানা দিয়ে হাতেনাতে বিপুল পরিমান বিরল প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার এর পাশাপাশি দুজন বিক্রেতাকে আটক করে বনদপ্তরের কর্মীরা। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁর নিউ মার্কেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বনদপ্তর সূত্রে জানা যায় গোপন সূত্র মারফত তাদের কাছে খবর আসে বনগাঁ নিউ মার্কেট এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমান কচ্ছপ আনা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই সূত্র অনুযায়ী বনদপ্তরের কর্মীরা ওই এলাকায় অভিযান চালায়। ক্রেতা সেজে এদিন অভিযান চালিয়ে বনগাঁর নিউ মার্কেট বাজার থেকে কচ্ছপ বিক্রি করার অপরাধে সুমিত হালদার ও শম্ভু ঘোষ নামক দু’জন ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে বনদপ্তরের কর্মীরা। একইসাথে উদ্ধার হয় প্রায় ১০০ টি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। উদ্ধারকৃত কচ্ছপ সহ ধৃত দুই বিক্রেতাকে এদিনই বনদপ্তরের বারাসাত রথতলা রেঞ্জ অফিসে নিয়ে যায় বনদপ্তরের কর্মীরা। রাতভোর জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি বলে জানায় বনদপ্তর। শেষমেশ ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে সোমবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ওই বিপুল পরিমান বিরল প্রজাতির কচ্ছপ কবে কিভাবে ওই বিক্রেতাদের কাছে এসেছিল, কোথায়ই বা পাচার করার কথা ছিল, আদৌ কি পাচার নাকি বিক্রির উদ্দেশ্যেই সেগুলো আনা হয়েছিল, ধৃতরা কতদিন যাবত ওই কারবারের সাথে যুক্ত, কচ্ছপ পাচার চক্রের সাথে আর কে বা কারা যুক্ত, কচ্ছপ পাচার চক্রের মুল পান্ডাই বা কে, ধৃতদের সাথে পাচারচক্রের আদৌ কোনো যোগাযোগ আছে কিনা। ধৃত দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ সহ বাজেয়াপ্ত করা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করার পর সমস্ত সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হবে বলে বনদপ্তর সূত্রে খবর।








