প্রধানের সামনেই সাংবাদিকের হেনস্তা
দাবদাহ লাইভ, হাবরা, নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গাইঘাটা থানার ধর্মপুর-১নং অঞ্চল প্রধান নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে এক ভূয়ো সাংবাদিককে আটকে রেখে উত্তম- মধ্যম দেয়ার অভিযোগ উঠে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পঞ্চায়েত সদস্যদের ভয় দেখিয়ে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছিলেন বলেও অভিযোগ ঐ ভুয়ো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। অবশেষে গত ১২এপ্রিল ধর্মপুর ১ পঞ্চায়েত এলাকায় হাতে- নাতে ধরা পড়ে দুই অপরাধী। মূল অভিযুক্ত ধৃতের নাম সুশান্ত সেন (পন্তু)। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর এলাকায়। ঘটনায় প্রকাশ, পন্তু একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে ভূয়ো সাংবাদিক আইডি কার্ড ও গাড়িতে ‘প্রেস’ লেখা ব্যবহার করে সহজেই সাধারণ মানুষজনকে ভয় দেখাতেন। ধর্মপুর, বাগদার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঠিকাদার, ব্যবসায়ী এমনকি পঞ্চায়েত সদস্যদের কাছ থেকে নিয়মিত অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলত বলে অভিযোগ। যদিও সুশান্ত সেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ধর্মপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্মল ঘোষ বলেন, “অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এধরনের অভিযোগ পেয়েছি। আনুমানিক ৩০-৩৫ জনের কাছ থেকে তারা অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছে। আমার চাহিদা ছিল ওকে একটু আমার কাছ পর্যন্ত নিয়ে আসবো। আজ সুন্দর ব্যবহার করে ওনাকে পঞ্চায়েত অফিসে ডাকি। সাথে সাথে আমার কর্মীকে ইশারা করে বললাম বাইরে থেকে গেটটা টানো! তারপর যারা যারা টাকা দিয়েছে তাদের এক এক করে ডেকেছি। তারা এসে বলেছে এই সেই ভদ্রলোক! উত্তেজিত জনতা টানাহ্যাঁচড়া করেছে। ওনার জামা একটু ছিঁড়ে গিয়েছে। আমি তাকে একটা নতুন শার্ট কিনে দিয়েছি। ভাড়া বাবদ ৫০ টাকাও দিয়েছি এবং আমি ওকে দিয়ে ক্ষমাও চাওয়াই।” গত ১২ এপ্রিল শনিবার ধর্মপুর-১ নং পঞ্চায়েত প্রধান নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানে প্রধানের কার্যালয়ের মধ্যে অভিযুক্ত সুশান্ত ওরফে পন্তুকে নির্মম ভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে পঞ্চায়েত প্রধানের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আর এধরনের কাজ না করার মুচলেকা লিখিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভুয়ো সাংবাদিক ও ভুয়ো পুলিশের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্পূর্ণভাবে অবগত। জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়টি উত্থাপনও করেন । কিন্তু এখানে প্রশ্ন উঠেছে অঞ্চল প্রধান নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও। ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত ভুয়ো সাংবাদিককে অঞ্চল প্রধান নিজে ফোন করে ডাকিয়ে তাঁর দপ্তরের মধ্যে এভাবে চর- থাপ্পড় মারা বা সম্পূর্ণভাবে আইন হাতে তুলে নেয়া— মোটেও ঠিক করেন নি! এর জন্য পুলিশ- প্রশাসন বা বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধান সাহেব কেন পন্তুর বিরুদ্ধে কোনও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই তাকে মুক্তি দিলেন— এ বিষয়ে আঙুল তুলেছেন মানবাধিকার সংগঠন। এলাকাবাসীরাও অঞ্চল প্রধান নির্মলবাবুর বিরুদ্ধে এক শ’ দিনের কাজে কারচুপি, স্বজনপোষণ, এলাকায় জমি ক্রয়- বিক্রয় হলে তোলাবাজির মত দুর্নীতির অভিযোগ করে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁরা আশাবাদী আগামীতে প্রধানের দুর্নীতির বিষয়গুলো একে একে প্রকাশ পাবে। সত্য প্রকাশে সংবাদমাধ্যমের কাছে ইতিমধ্যে বহু তথ্য তুলে দিয়েছেন। যা পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হবে বলে আশাবাদি। তবে ইদানিং ভুয়ো সাংবাদিকদের বাড়- বাড়ন্ত ক্রমবর্ধমান। ফেসবুক পেজ বানিয়ে গাড়িতে ‘প্রেস’ লিখে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক দল। তাদের কাছে না আছে কোনও বৈধ কাগজপত্র। কার্যত প্রকৃত সাংবাদিক ও ভুয়ো সাংবাদিক বিষয়টি সর্বসাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছে। ফলে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। তাই অবিলম্বে এধরনের ভুয়ো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তরফে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক বলে এলাকা থেকে দাবী উঠছে।




















