পুস্তক সমালোচনা
ডক্টর মনোজ ঘোষঃ “এক পৃথিবী অখন্ড আকাশ” নির্বাচিত কাব্যগ্রন্থ .. নামটি এক অন্য মাত্রা বহন করে। কবি নীলাদ্রি ভৌমিকের এই কাব্যগ্রন্থটি যা চেতনা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, সেটি হস্তগত হওয়ার পর এক নিঃশ্বাসে বলা ভালো এক চুমুকে পান করলাম। “কাপ্তেন “থেকে শুরু করে “ভাসানে চলেছে কবি ” এবং কাব্যনাট্য “ঘুমের মেধাবী প্রতিধ্বনি” থেকে “আগুন ছোঁয়ার খেলা” কবির কলমের আঁচড়ে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। কবি যে কাঠ পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পাত্র নন, তা আমরা তার প্রতিটি কবিতার ছত্রে ছত্রে বুঝতে পেরেছি। কখনো জ্বালানির অভাবে নিভন্ত চুলা, ফাঁকা পেটে ঘুম নেই, সারাদেশে ধর্মের যে খেলা তা কবির সুন্দর ছন্দবদ্ধতায় পাঠক মনে অপূর্ব অনুভূতি সৃষ্টি করে। আবার পাঠক কবির ভেলায় ভাসতে ভাসতে, ভালো থাকা ও ভালো না থাকার বিমর্ষতা, বর্ণমালার স্রোতে কখন মৃত্যুর ইশারা বহন করে, বাতাসে ভর করে, আইনকে পাথেয় রেখে, প্রবাহের গড্ডালিকায় নতুন সাগরে পাড়ি দিয়েছে। তাই তো কবি বলতে পারেন “বন্ধ করে দাও সদর দরজা জানালার ফাঁক ও ফোঁকর “….চিত্রপটে কবির গোধূলির আঁকা রং পাঠক মনে এক আলেয়ার মতো হাতছানি দেয়। কিন্তু কবি পরক্ষনেই বলছেন, “গোটা চিত্রপটে মৃত্যুর পদ ছাপ।” এ যেন কবির দেখা এক বিভীষিকাময় সুন্দরের বর্ণনা। প্রতিটি কবিতা, সে ছোট হোক বা দীর্ঘ, মন গচ্ছিত রাখে তার বাঁদিকের ঝুলিতে। ঠিক তেমনি করেই.. “শিল্পী ও ছবি”.. কাব্য নাট্য আমাদের অতি আপন মানুষ, অতি পরিচিত দুজনের কথোপকথন। এক মন ভালোবাসা নিয়ে শেষ করলাম এক পৃথিবী অখন্ড আকাশ। কবির প্রতি রইল আমার গভীর শ্রদ্ধা।








