পুলিশের তৎপরতায় ষষ্ঠীর দিন নিখোঁজ পিতাকে ফিরে পেল পুত্র
দাবদাহ লাইভ, অশোকনগর, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ মহাষষ্ঠীর দিন হয় মহামায়ার বোধন। আর এদিন আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক পিতাকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি পায় তাঁর পুত্র। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার অশোকনগর থানার পুলিশের সহযোগিতায় দেবী দূর্গার বোধনকালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পিতাকে ফিরে পেয়ে নিশ্চিন্ত হয় পুত্র। পুলিশ সূত্রে জানা যায় পঞ্চমীর দিন রাতে টহলদারীর সময় অশোকনগরের বনবনিয়া এলাকায় এক বৃদ্ধকে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে ওই বৃদ্ধ নদীয়া জেলার নবদ্বীপ থানা এলাকার বাসিন্দা ৭২ বছরের নিরাপদ রাজবংশী। ওই বৃদ্ধ বার্ধক্যজনিত কারনে কানে কম শোনেন, একাধারে স্মরণ শক্তিও কিছুটা লোপ পেয়েছে বলে অনুমান। পরে অশোকনগর থানার পক্ষ থেকে বৃদ্ধর ছবি তুলে নবদ্বীপ থানায় বিষয়টি জানানো হয়। এরপর নবদ্বীপ থানার পুলিশ মারফত খবর পেয়ে বৃদ্ধর বাড়ির সদস্যরা শনিবার মহা ষষ্ঠীতে অশোকনগর থানায় এসে পৌঁছায়। এদিন মহামায়ার বোধনকালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বৃদ্ধকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিতে পেরে খুশি হয় বলে জানায় অশোকনগর থানার পুলিশ। নিখোঁজ হবার চার দিন পর ষষ্ঠীর দিন মা দূর্গার বোধনকালে বৃদ্ধ পিতাকে ফিরে পেয়ে অশোকনগর থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বৃদ্ধর পরিবারের সদস্যরা। এদিন পিতাকে ফিরে পেয়ে পুত্র জানায় প্রতিদিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে তাঁর পিতা পাড়ার লোকজনদের সাথে গল্প করতে গেলেও সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফিরে যান। প্রতিদিনের ন্যায় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ গত সোমবার বেলা দু’টো নাগাদ তাঁর পিতা দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়েন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামলেও বৃদ্ধ পিতা বাড়ি না ফেরায় চিন্তায় পড়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। এরপরই পিতার খোঁজে তাঁদের এলাকা সহ রেলওয়ে স্টেশন, আত্মীয় পরিজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করে পরিবার পরিজনেরা। কিন্তু পিতার কোনো খোঁজ না মেলায় স্থানীয় নবদ্বীপ থানায় তাঁর পিতার নামে একটি নিখোঁজ অভিযোগ দায়ের করা হয়। পিতা আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় দুঃশ্চিন্তার মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু মহা ষষ্ঠীর দিন ভোররাতে স্থানীয় থানা মারফত খবর পাওয়া মাত্রই পিতাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাঁরা। অশোকনগর থানায় পৌঁছে প্রমাণ সাপেক্ষে পিতাকে পুনরায় কাছে পেয়ে বেজায় খুশি হয় পুত্র সহ পরিবারের সদস্যরা। এরপর পিতাকে সাথে নিয়ে তাঁরা নিশ্চিন্তে বাড়ির দিকে রওনা দেয়।









