পুকুর পাড়ের নির্মান কাজ বন্ধ করে দিল মেদিনীপুর পুরসভা
দাবদাহ লাইভ, পশ্চিম মেদিনীপুর, অক্ষয় গুছাইতঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিখ্যাত বেনে পুকুর পাড় নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল মেদিনীপুর পৌরসভা। পুকুর পাড়ে কন্সট্রাকশন বন্ধ সহ পুনরায় আগের অবস্থায় তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার অর্ডার দিলেন মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। জানা যায়, মেদিনীপুর পৌরসভার ১ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মধ্যস্থলে অবস্থিত এই বেনেপুকুর। এই বেনে পুকুরের আয়তন পাড় ও পুকুর মিলিয়ে প্রায় ১০ বিঘা। এলাকার মানুষ পুকুরের জল বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজেই শুধু ব্যাবহার করে তা নয়, কখনো কখনো খাবার জল হিসেবেও এর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বেশ কিছু প্রোমোটার এবং অসাধু ব্যবসায়ী এই পুকুরপাড় ছোট করে ফেলছে। তারা পুকুর ঘিরে ফেলছে এবং প্লটের ব্যবসা সহ বহুতল নির্মাণের চেষ্টা করছে। এরপর এলাকার মানুষজন সরাসরি ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিষয়টি জানিয়ে কোনও সুরাহা না হওয়ায়, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লেখেন নবান্নে। সেই চিঠির কপি তারা ফরওয়ার্ড করে দেন মেদিনীপুর পৌরসভা, জেলাশাসক এবং ফিসারি ডিপার্টমেন্টকে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন সহ পৌরসভা। তারা ওই পুকুর পাড়ে কনস্ট্রাকশন বন্ধ করার অর্ডার দেয়। তবে পুকুর মালিক এই বিষয়েই সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছেন এবং তিনি পৌরসভার বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে নবান্ন থেকে এই অভিযোগ ফরওয়ার্ড হয় আমাদের কাছে। আর সেই অভিযোগ পেয়ে আমরা এলাকা খতিয়ে দেখি। দেখার পরেই আমরা কাজ বন্ধের নোটিশ জারি করি। এরই সঙ্গে এই কপি আমরা ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি পুলিশ প্রশাসন, জেলার জেলা শাসক,মহকুমা শাসক এবং ফিসারি ডিপার্টমেন্টকে। যাতে কোনোভাবেই এই ধরনের জলাশয় ভরাট করে কোনওভাবেই ব্যবসা পত্র অথবা প্রোমোটারিরাজ না গড়ে ওঠে শহরে।’ যদিও এ বিষয়ে পুকুরের মালিক অন্য কথা বলছেন। পুকুর মালিক অনির্বাণ ব্যানার্জি বলেন, ‘আমরা পুকুর ভরাট আদৌ করিনি। এই পুকুর বহু দিনের। এই পুকুরে এলাকার মানুষ স্নান থেকে খাওয়া-দাওয়ার জন্য ব্যবহার করে। এই পুকুরের জায়গার উপর দিয়ে পৌরসভা অবৈধভাবে রাস্তা করেছে এবং জলের ট্যাপ বসিয়েছে। তাছাড়া এই পুকুর পারে মদ – জুয়া ঠেকের আড্ডা বসে। তাই পুকুর পাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি নাব্যতা বাড়ানোর জন্য পাড় বাঁধাই করে দিচ্ছি। যাতে এখানকার মানুষের গরম কালে জলের কোনওরকম কষ্ট না হয়। কিন্তু মেদিনীপুর পৌরসভা কোনও কারণ ছাড়াই একাজ বন্ধ করে দিয়েছে যার ফলে আমাকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।’








