পাতুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ভস্মিভুত জমিদার বাড়ীর একাংশ
দাবদাহ লাইভ, ব্যারাকপুর, শ্যামল করঃ ঘটে যেতে পারতো এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এক বিধ্বংসী আগুনের লেলিহানে পাতুলিয়া বিশ্বাস পাড়ার সুপ্রাচীন জমিদার বাড়ির একাংশ ভস্মিভুত। শুনলে যেন মনে হবে, এক দুঃস্বপ্নের কথা। বিকেল তখন সাড়ে চারটে ওই সময় বাড়িতে ছিলেন না পরিবারের অধিকাংশ সদস্যগনই গিয়েছিলেন বীরভূমের তারাপীঠে শ্রী শ্রী ওম তাঁরা মায়ের মন্দিরে ভান্ডারা দিতে। আর পুজোর এবং ভান্ডারা সমাপ্ত করে বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে দরজার কাছেই তাঁরা দেখতে পান প্রবল আগুন তাঁদের বাড়ির সংলগ্ন বাগানে। সে আগুন যাতা আগুন নয় দোতলা ছাড়িয়ে আড়াই তিন তলা পর্যন্ত তার উচ্চতা ছিল এবং দিনের বেলাতেও সেই আগুন চোখে পড়ার মতই প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন এই কথাই জানান সংবাদ মাধ্যমকে। বাড়ি থেকে কানে ভেসে আসতে থাকে প্রবল শব্দে ছুটে আসা ফায়ার ব্রিগেড-এর হুটার বাজিয়ে গাড়ির আসবার শব্দ। ঠিক কি ঘটেছিল জানতে চাওয়া হয় প্রবীণ মদন ঘোষের কাছে। রাস্তায় মদন বাবুর দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে রহড়া থানার গাড়ি এবং ফায়ার ব্রিগেড-এর গাড়ি তড়িঘড়ি পাইপ নামাতে শুরু করেন দমকল কর্মীরা এবং সঙ্গে সঙ্গে স্টাট দিয়ে জলের গতি বাড়িয়ে দেওয়া হয় আগুন নেভাবার কাজে। যদিও প্রথমদিকের আগুনের লেলিহান কিছুটা হলেও নেওয়া হবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বাড়ির সদস্যগণ ছাড়াও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ পুকুর থেকে জল তুলে বালতিকে বালতি দূর থেকে ছুঁড়তে থাকেন সেই আগুনের উদ্দেশ্যে। একেতো প্রবল রোদের তাপ তার মধ্যে আগুন তার নিজস্ব রূপ ধারণ করতে থাকে, পরক্ষণেই। যেমন ধোঁয়া তেমনি কুণ্ডলী পাখি আগুন ঠিক যেন মনে হয় কোন বড় কারখানায় আগুন ধরে গিয়েছিল। বাড়িতে ঢুকতেই বিশাল পুকুর এর পাশে রেলিঙে বসেছিলেন রহড়া থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার দেবাশীষ সরকার এবং বাড়ির অন্যতম প্রবীণ ব্যক্তি মদন ঘোষ। সংবাদমাধ্যমকে মদন বাবু জানান যে আজ বাড়িতে কেউ ছিল না সবাই গিয়েছিল তারাপীঠে পুজো দিতে ইতিমধ্যে আমাদের বাগানে দুদিন আগে লেবার এসে কয়েকটি বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে গিয়েছিল তার পাতা গুলো জড়ো করা ছিল আমারই বাড়ির দেওয়ালের সঙ্গে। কিন্তু দুদিন পরে কিভাবে আগুন লেগে গেল সেই পাতার স্তুপে সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এটাই ভগবানের আশীর্বাদ। অন্যদিকে পুলিশ আধিকারিক জানান হয়তো কোন বিড়ি খেয়ে কেউ ফেলেছিল ওই পাতাতে গাছ কাটার সময় ওই বিড়ির আগুন থেকে ধিকি ধিকি করে আর বিশেষ করে পুকুরপাড়ে হওয়াতে হাওয়ার গতিতে ওই আগুন এই বিশাল আকার ধারণ করে। যথা সময় বাড়ির সদস্য এবং ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা যদি হাত না দিতেন, তাহলে এই আগুনে অন্যরকম কিছু একটা ঘটে যেতে পারতো। তেমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি এটাই সৌভাগ্য। ফায়ার ব্রিগেডের দুজন আধিকারিক সজল ঘোষ এবং রাজেশ বাবু জানান কোনভাবে কোনক্রমে এখানে আগুন লেগে গিয়েছিল আর এই আগুনের মাত্রা এতই বেশি প্রবল ছিল যথাসময়ে জল না পড়লে এই আগুনে বাড়ির অনেকটা অংশ তাছাড়া ও বাগানের যে বড় বড় গাছপালা রয়েছে সব আগুনে ভস্মি ভুত হয়ে যেত। কিন্তু এই আগুন কিভাবে লাগল একদম বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে পাতার জঞ্জালে সেটাই সকলের কাছে একটু আশ্চর্য লেগেছিল বৈকি। আর সদৃশ্য বিশাল বাড়ির দেওয়াল ঘাসেই রাখা হয়েছিল ওই পাতার পাহাড় আর সেখানে কিভাবে আগুনটা লেগে গেলো যেটা বৃহৎ বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে বাগানের ভিতর নিজস্ব বিশাল বাড়ির একেবারে দেয়ালের সঙ্গেই রাখা হয়েছিল ওই পাতার পাহাড়। আর্থিক সেখানেই এই দুর্ঘটনা ফায়ার ব্রিগেডের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং চেষ্টায় সেই বিশাল আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলেন তাঁরা। ৫ জন দমকল কর্মী সহ দুজন আধিকারিক এই কাজে হাত লাগান এবং বাড়ির পরিবারবর্গকে বলে যান বাড়ির সুরক্ষার জন্য গোটা দুয়েক সিসি ক্যামেরা অতিসত্বর বৃহৎ রাজবাড়ীর দুপাশে লাগিয়ে রাখতে বাড়ির সুরক্ষার জন্য। বাড়ির পরিবার বর্গ এবং মদন ঘোষ বাবুর কনিষ্ঠা কন্যা সোমা ঘোষ তাঁরা কি জানালেন, শুনে নেওয়া যাক তাঁদের বক্তব্য থেকে। সর্বোপরি মদন বাবুর কনিষ্ঠ ভাই মানস ঘোষ মহাশয় তিনি কি জানালেন? আগুন যে সাধারণ আগুন ছিল না সেটা ৫/৬ জনের মধ্যে থেকে গুনগুন করে শোনা যায়। আর ঠিক দোল পূর্ণিমার আগের সন্ধ্যায় যে ন্যাড়া পুরাতে আগুন ধরানো হযসেই আগুনের তীব্রতার মতই ছিল বিশ্বাস পাড়ার মদন ঘোষ মহাশয়ের গৃহের দেওয়াল সংলগ্ন পাতার পাহাড়ের স্তুপের।




