ন্যানো সার প্রযুক্তির সাফল্যে ভারতীয় কৃষিতে নতুন বিপ্লব
দাবদাহ লাইভ, নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ ২০২৫–২৬ অর্থবছর ভারতীয় সমবায় আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে জানালেন ইন্ডিয়ান ফার্মারস ফার্টিলাইজার সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান দিলীপ সাংঘানি। ১৯৬৭ সালে মাত্র ৫৭টি সমবায় সমিতি নিয়ে শুরু হওয়া আইএফএফসিও আজ ৩৬,০০০-এরও বেশি সমিতি এবং লক্ষ লক্ষ কৃষকের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম সমবায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কেবল একটি সাফল্য নয়, বরং ভারতের সমবায় চেতনার শক্তির জীবন্ত প্রমাণ। এই স্বর্ণালী বছরে আইএফএফসিও ৪,১০৬ কোটিরও বেশি প্রাক-কর মুনাফার সর্বকালের রেকর্ড গড়েছে। আইএফএফসিও উৎপাদন ও বিক্রিতেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ১১৮.৭৫ লাখ মেট্রিক টন সার বিক্রির রেকর্ড এবং সারা দেশে ১১৯.৬৮ লাখ মেট্রিক টন সরবরাহ প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। ইউরিয়া ও ডিএপি সারের ক্রমবর্ধমান বিক্রি কৃষিক্ষেত্রে আইএফএফসিওর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ন্যানো সারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার বিক্রি ৩০.১ লাখ বোতল ছাড়িয়েছে। ন্যানো ইউরিয়া প্লাস, ন্যানো ডিএপি, ন্যানো জিঙ্ক, ন্যানো কপার এবং ‘ধরমরুত’-এর মতো পণ্য কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি, ন্যানো এনপিকে লিকুইড (৮-৮-১০) এবং ন্যানো এনপিকে গ্রানুলার (২০-১০-১০) ফার্টিলাইজার কন্ট্রোল অর্ডারের অধীনে নোটিফাই হয়েছে—যা বিশ্বের মধ্যে প্রথম ধরনের পণ্য। এগুলি পাতায় স্প্রে এবং মাটিতে প্রয়োগ—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহার করা যায়, ফলে পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ে এবং পরিবেশের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ন্যানো প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে আইএফএফসিও বেঙ্গালুরুর দেবনাহল্লিতে তাদের চতুর্থ ন্যানো সার কারখানা উদ্বোধন করেছে, যার ফলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৯.৫ লক্ষ বোতলে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কোয়েম্বাটুরে স্থাপিত ন্যানো ইনোভেশন সেন্টার কৃষি প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। আইএফএফসিও কর্মীদের কল্যাণেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চেয়ারম্যান দিলীপ সাংঘানির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য প্রতি মাসে ন্যূনতম ২০,০০০ টাকার নিশ্চিত বেতন চালু করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং এর জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১৪০ কোটি টাকার ব্যয় হয়েছে। আজ আইএফএফসিওর কার্যক্রম ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে ৪০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত। ব্রাজিলে ন্যানো সার উৎপাদনের জন্য যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও চলছে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় ন্যানো প্রযুক্তিকে নতুন পরিচয় দেবে। সমবায় নেতা হিসেবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস—কৃষকের সমৃদ্ধিই দেশের সমৃদ্ধির ভিত্তি। এই ভাবনা থেকেই, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আইএফএফসিও কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সময়মতো মজুত ব্যবস্থাপনা এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আগামীর পথ স্পষ্ট—ন্যানো প্রযুক্তি, জৈব চর্চা এবং আধুনিক কৃষির সঙ্গে সারের সমন্বয়ের মাধ্যমে মোদির ভিক্ষিত ভারত ২০৪৭ স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছি বলেও জানান। এই উপলক্ষে আইএফএফসিওর চেয়ারম্যান দিলীপ সাংঘানি প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সহযোগিতা মন্ত্রী সার ও রাসায়নিক মন্ত্রী সহ কৃষিমন্ত্রীকে তাঁদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আইএফএফসিও বোর্ডের সব সদস্যকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের গল্প নয়, বরং এটি এক বিজয়ের কাহিনি, যা কৃষকদের পরিশ্রম, কর্মীদের নিষ্ঠা এবং সমবায় আন্দোলনের চিরন্তন মূল্যবোধের প্রমাণ।
ন্যানো সার প্রযুক্তির সাফল্যে ভারতীয় কৃষিতে নতুন বিপ্লব
0%

















