নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন
দাবদাহ লাইভ, টাকি, বাসুদেব সেনঃ ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ঃ ২৫/১০/২০২৪ ) থেকে ঘূর্ণিঝড় দানার আক্রমণ উপেক্ষা করে কয়েক শ’ সাহিত্য অনুরাগী উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর টাকিতে সমবেত হন। অনুষ্ঠান স্থল থেকে খুব কাছেই বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা। ইছামতি নদীর এপার ভারত, ওপারে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সমিতি ২৫ তম রাজ্য সম্মেলন শুরু করেছে টাকির পৌরসভার সংস্কৃতি মঞ্চে। সাধারণ সচিব অনিল কুমার ধর জানালেন এই সর্বভারতীয় সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ভাষার বিস্তার লাভ করা। ২৬ শে অক্টোবর মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো সম্মেলনের পতাকা উত্তোলন করে। তারপর সম্মেলন সঙ্গীত কবি অতুল প্রসাদ সেনের ‘মোদের গরব মোদের ভাষা’ সমবেতভাবে গাওয়া হয়। মূল মঞ্চে স্বনামধন্য সাহিত্যিক অনিতা অগ্নিহোত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী ভাষণে অভ্যর্থনা সমিতির চেয়ারম্যান, টাকির পৌরপ্রধান সোমনাথ মুখার্জী সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। যারা সংস্কৃতির পীঠস্থান টাকিকে এই মহতী সম্মেলনের জন্য বেছে নিয়েছেন। সম্মেলন স্থলে ২৪ পরগনা, রায়গঞ্জ, কৃষ্ণনগর, পানিহাটি, কাঁথি দীঘা , বার্ণপুর, আলিপুরদুয়ার, মালদহ, বাঁকুড়া, রূপনারায়ণপুর, দুর্গাপুর এরকম বহু জায়গা থেকে বহু প্রতিনিধি হাজির হয়েছেন। ২৫ তম রাজ্য সম্মেলনের মূল আয়োজক ছিলেন ‘নব বারাকপুর – মধ্যমগ্রাম শাখা’। দ্বি শতবর্ষে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রসঙ্গে ভালো আলোচনা করেন ডা. কাজল কৃষ্ণ বনিক। এই আলোচনায় সভাপতির আসন অলংকৃত করেন বীরেন চট্টোপাধ্যায়। চলচ্চিত্র ও বাংলা সাহিত্য নিয়েও একটি মনোজ্ঞ আলোচনা হয়। শেষ দিনে বাংলা সাহিত্যে তিন মুখোপাধ্যায় ( বিভূতিভূষণ, শৈলজানন্দ ও বলাইচাঁদ) নিয়ে আলোচনা। এছাড়া বাংলা সাহিত্যে কবি জীবনানন্দ দাশ নিয়ে ড. দয়াময় রায়, প্রদীপ্ত চক্রবর্তীর আলোচনা। আসল কথা বাংলা ভাষার প্রতি প্রীতি ও প্রসার আজকের দিনে অত্যন্ত জরুরি বলে সকলে অনুভব করেন। বাংলার বাইরে এই ভাষা অনেক জায়গায় অবহেলিত। আমরা ইংরেজি সহ হিন্দি ভাষার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছি। ফলে তীব্র আন্দোলন প্রয়োজন বলে জানালেন অভ্যর্থনা সমিতির সভাপতি হরিদাস বালা ও সচিব বাদল সরকার। ১৯৯৭ সালে দুর্গাপুরে সুনীলময় ঘোষের নেতৃত্বে ‘ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সমিতি ‘ গঠিত হয়, বললেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দেবাশীষ গোস্বামী। মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেল যে বাংলা ভাষার মান মর্যাদা রক্ষা করবার জন্য ‘নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন’ দীর্ঘদিনের উদ্যোগ, যা আজো এভাবেই বহমান প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। সাধারণ সচিব অনিল কুমার ধর বলেন, বারাণসীতে ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি ‘প্রবাসী বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন’ নামে প্রবাসীদের যেমন অতুল প্রসাদ সেন, রাধাকমল মুখার্জি, মহেন্দ্র চন্দ্র রায় ও আরো অনেককে নিয়ে তৈরি করেছিলেন। পরে ১৯৫৩ সালে এর নাম হয় ‘নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন।’ এই সংগঠনটি এ বছর ২৫ থেকে ২৭ শে অক্টোবর টাকিতে বর্তমান ভারতবর্ষে বাংলাভাষা একটি ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেয়েছে তার মহতী স্বাক্ষর রেখে দিতে চাইছে।নিউজ এক ঝলকে
নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন
0%

















