নববারাকপুরে ম্যারাথন দৌড়ে জেলার জয়জয়কার
দাবদাহ লাইভ, নববারাকপুর, অলক আচার্য : রবিবার সকালে নববারাকপুরে বিরাট ম্যারাথন দৌড়ের আয়জন করা হয়। উদ্দেশ্য খেলাধূলো ও দৌড়ের মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ। এই প্রতিজগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীদের উন্মাদনা উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।নববারাকপুর পশ্চিম কোদালিয়া নবোদয় সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে প্রথম বর্ষের ৫ কিমি ম্যারাথন দৌড় শুরু হয় সংঘ প্রাঙ্গণ থেকে। এরপরে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে দৌড় শেষ হয় সংঘ প্রাঙ্গণে। পতাকা নেড়ে ম্যারাথন দৌড়ের শুভ সূচনা করেন পুরসভার পুরপ্রধান প্রবীর সাহা, স্থানীয় পুর প্রতিনিধি আরতি দাস মল্লিক। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত, মছলন্দপুর, আমডাঙা, বনগাঁ, বিরাটী, তেঘরিয়া খড়দহ, বিধাননগর, সোদপুর পানিহাটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর, মগরাহাট, ক্যানিং, জয়নগর,খড়গপুর, চম্পাহাটি, হুগলির কোন্নগর, হাওড়া, বাগনান,বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।
পুরপ্রধান প্রবীর সাহা বলেন, “নববারাকপুরে দীর্ঘ কয়েক বছর বাদে এক সুবিশাল ম্যারাথন দৌড়ে পুনরায় চালু হল পুরসভার ২০ নং ওয়ার্ডে নবোদয় সাংস্কৃতিক সংঘের উদ্যোগে। আগে শহরে সুস্থ শরীরচর্চার খেলাধূলো এই ধরনের দৌড় ম্যারাথন প্রচলন ছিল। মাঝখানে বন্ধ হয়। পুনরায় চালু হল। খুব ভালো উদ্যোগ। বহু প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করছে। এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।“সংঘের ক্রীড়া সম্পাদক তাপস মজুমদার জানান, “দীর্ঘ পনেরো বছর বাদে এক বিরাট ম্যারাথন দৌড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীদের উদ্দীপনা বেশ ভালো সাড়া ফেলেছে এলাকায়। “অ্যাথলিট যুথিকা রায় বলেন, “জাতীয়স্তরে সফল অ্যাথলিট হিসেবে আমার স্বপ্ন ছিল এলাকায় ম্যারাথন দৌড়ের আয়োজন করা। সেই স্বপ্ন পূরণ করল নবোদয় সাংস্কৃতিক সংঘের সদস্যরা। সংঘের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। “আগামী দিনে আরও বড় আকারে ম্যারাথন দৌড় করা হবে বলে জানান যুথিকা দেবীরা। তিনি আরও বলেন, “সুস্থ শরীরচর্চার ব্যক্তিত্ব ৭৫ বছরের উষা রানি মজুমদারকে এখনও রাস্তায় দৌড়াতে দেখে আগামী প্রজন্মরা উৎসাহিত হবে।“
এই প্রতিযোগিতায় ২৩১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে। চারটি বিভাগে পুরুষ ও মহিলা এবং পঞ্চাশোর্ধ্ব পাচঁ জন করে মোট ২০ জনকে পুরষ্কার প্রদান করে উৎসাহিত করা হয়। পুরুষ বিভাগে প্রথম লেনিনগড় পেয়ারাবাগানের নেপাল সাহা,দ্বিতীয় হন বারাসতের সতীশ সিং, তৃতীয় হন আমডাঙার তাজউদ্দিন মন্ডল, বনগাঁর বিপ্রদীপ ভক্ত চতুর্থ, তেঘরিয়ার মহম্মদ সামিম পঞ্চম। মহিলাদের মধ্যে প্রথম হন খড়দহের সুনীতা চৌধুরী, বিরাটীর ঈশিকা ঘোষ দ্বিতীয়, বিধাননগরের সাহানাজ পারভিন তৃতীয়, মুড়াগাছার পায়েল বাগচী চতুর্থ, খড়দহ-পানিহাটির কাঙ্খিতা রায় পঞ্চম। পঞ্চাশোর্ধ্ব দৌড়ে পুরুষ বিভাগে প্রথম হন গোবরডাঙার শঙ্কর মন্ডল, মগরাহাটের বিশ্বনাথ সরকার দ্বিতীয়, সোনারপুরের চন্দ্রেশ্বর হালদার তৃতীয়, ক্যানিঙয়ের আব্দুল কালাম লস্কর চতুর্থ, দমদমের লোকনাথ সাহা পঞ্চম; এবং মহিলাদের মধ্যে প্রথম হন সোনারপুরের রীনা ভদ্র, মছলন্দপুরের বিপ্লবী দেবনাথ দ্বিতীয়, খড়্গপুরের রীনা বেড়া তৃতীয়, নববারাকপুরে উষা রানী মজুমদার চতুর্থ।
আট থেকে আশি সফল প্রতিযোগীদের হাতে সুদৃশ্য ট্রফি,মেডেল ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি হয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীদেরও শংসাপত্র এবং মেডেল দিয়ে উৎসাহিত করেন পুরসভার পুরপ্রধান সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ ও ক্রীড়া সংগঠক ও সংঘের সদস্যরা। পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরসভার পুরপ্রধান প্রবীর সাহা, স্থানীয় পুর প্রতিনিধি আরতি দাস মল্লিক, দেবাশিস মিত্র, সুদীপ ঘোষ, শোভা রায়, প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি অশোক মিত্র, প্রাক্তন ফুটবলার সুধীর দাস, জাতীয় অ্যাথলিট যুথিকা রায়, সংঘের সম্পাদক শেখর মিত্র, ক্রীড়া সম্পাদক তাপস মজুমদার, সভাপতি বাবলু বিশ্বাস সহ সংঘের সদস্যরা।








