অমানবিকতার অনন্য নজির,অগ্নিগর্ভ বারাসাত
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় এক শিশু পুত্রের পচা গলা দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ১১ বছরের একটি শিশু পুত্র তাঁর বাবার কাছ থেকে দুই টাকা নিয়ে স্থানীয় একটি দোকানে খাবার কিনতে যায়। দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও শিশু পুত্র বাড়িতে ফেরে না। স্বভাবতই চিন্তার ভাজ পড়ে পরিবারের সদস্যদের কপালে। চারিদিক খোঁজাখুঁজি করার পর শিশু পুত্রের সন্ধান না মেলায়, সোমবার বারাসাত থানা ও রেলওয়ে পুলিশের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এলাকায় থাকা জঙ্গল, জলাশয় সহ পরিত্যক্ত এলাকাগুলোতে তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়। এমনকি কুকুর দিয়ে খোঁজ চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিশেষে বৃহস্পতিবার শিশুটির বাড়ির পাশেই থাকা একটি পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই শিশুর পচা গলা দেহ উদ্ধার হয়। শিশু পুত্রের শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়ার পর, তাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে পরিত্যক্ত শৌচাগারে ঝুলিয়ে রেখেছে স্থানীয় এক মহিলা, এমনই অভিযোগ শিশুর পরিবারের। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা কাজীপাড়া এলাকা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা যশোর রোড অবরোধ করে। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। নাকাল হতে হয় পথ চলতি মানুষদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পুলিশের উপর চড়াও হয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও তোলেন তারা। বৃহস্পতিবার দফায় দফায় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পুলিশকর্মী সহ সাংবাদিকদের ওপরও আক্রমণ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুক্রবার বিকেল চারটের সময় বারাসাত হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর পুলিশি পাহারায় ওই শিশুপুত্রের মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় বারাসাত কাজীপাড়ায় তার বাড়িতে। সেই সময় পুনরায় অশান্ত হয়ে ওঠে এলাকা। শুক্রবার বিকেল চারটের সময় অশান্ত এলাকা শান্ত করতে নতুন করে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বারাসাত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ও দত্তপুকুর থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বিষয়ে শিশুটির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। অন্যদিকে বারাসাতে নিখোঁজ শিশুর পচা গলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানান ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৌমেন আচার্য। তিনি বলেন, ওই শিশু নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় থাকা সমস্ত পরিত্যক্ত এলাকা সহ জঙ্গল ও জলাশয় গুলিতেও শিশুটির খোঁজ চালানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে তিনি জানতে পারেন, শিশুটিকে তাঁর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত একটি শৌচাগারে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি এও বলেন ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যাক্তির ফাঁসি হওয়া উচিত। এখন দেখার বিষয়, বারাসাতে ঘটে যাওয়া অমানবিকতার নজিরবিহীন ঘটনায় জড়িত দোষীরা আদৌ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় কি না।
নিউজ এক ঝলকে
অমানবিকতার অনন্য নজির,অগ্নিগর্ভ বারাসাত
97%

















