দেগঙ্গায় ইট রাখার অপরাধে পিটিয়ে বৃদ্ধ হত্যায় আটক-৩
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ বাড়ির সীমানায় ইঁট রাখার অপরাধে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করে তাঁর ভাইপো। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক উত্তেজনা। নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে ৩ জন অভিযুক্তকে আটক করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। রবিবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার দেগঙ্গা থানার অন্তর্গত নুরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাম্ভীরগাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় এদিন বাড়ির সীমানায় ইঁট কিনে এনে রাখে ৭০ বছরের বৃদ্ধ জুলিন মোল্লা। ওই ইঁট রাখাকে কেন্দ্র করে জুলিন ও তাঁর ভাইপো হাবিব এর সাথে গন্ডগোলের জেরে জুলিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাঁর ভাইপো। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাকা ভাইপোর মধ্যে বিবাদ চলছিল। এ নিয়ে প্রায়শই গন্ডগোল হতো দুজনের মধ্যে। রবিবার বৃদ্ধ জুলিন কিছু ইঁট কিনে এনে দুই বাড়ির সীমানায় রাখলে আপত্তি জানায় তাঁর ভাইপো হাবিব। ওই ইঁট রাখাকে কেন্দ্র করেই কাকা ভাইপোর মধ্যে শুরু হয় বচসা। পরে তা প্রকট আকার ধারন করে। শুরু হয় মারামারি। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে হাবিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জুলিনকে বাড়ির সামনে থাকা ঢালাই রাস্তার উপর ফেলে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এমনকি আচমকা হাত পা চেপে ধরে রাস্তার উপর তাঁর মাথা একাধিকবার ঠুকে রক্ত বার করে দিলে জুলিন অচৈতন্য হয়ে পড়ে। এদিন হাবিব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারের হাত থেকে জুলিনকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩ জন আহত হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত সকলে পালিয়ে যায়। এমনই অভিযোগ পরিবার সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপর স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এদিন রাতে বৃদ্ধকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগে ৭ জনের নামে দেগঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় মৃত জুলিনের পরিবারের পক্ষ থেকে এমনটাই জানায় পুলিশ। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে ধৃতদের বারাসাত মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।





























