দু’দিন ব্যাপী বেঙ্গল ফিস ফেস্ট নলবন ফুড পার্কে
দাবদাহ লাইভ, সল্ট লেক সিটি, সুমাল্য মৈত্রঃ প্রবাদে আছে মাছে ভাতে বাঙালি, অথবা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করা; কিম্বা কায়েত মরে সেয়ানে, বেনে মরে দেয়ানে, জোলা মরে তাঁতে, কাঙালী বাঙালী মরে মাছে আর ভাতে ; বাঙালির ঘরে ঘরে মাছ নিয়ে প্রবাদের শুরু আছে কিন্ত শেষ নেই। এক জায়গায় বলছে, পড়িয়া শুনিয়া মারিবে দুখে / মৎস্য ধরিবে খাইবে সুখে / মাছ ধরবো খাবো ভাত। কিসের এত উৎপাত মাছ নিয়ে এমন অসংখ্য প্রবাদ কার্যত মিথে পরিণত হয়েছে তবে মাছ শুধুমাত্র প্রবাদেই আটকে নেই বাঙালি ঘরে পার্বনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে মাছ যেমন বিয়ের সময়ে তত্বে মাছ পাঠাতে হয় আবার নিয়ম ভঙ্গের অনুষ্ঠানেও থাকে মাছের কদর অর্থাৎ মাছ বাদ দিয়ে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব কল্পনাই করা যায় না। শুক্রবার ৬ ই মার্চ মৎস্য , মৎস্য চাষ, মৎস্য সম্পদ ও মৎস্য বন্দর ও দপ্তরের উদ্যোগে দুদিন ব্যাপী বেঙ্গল ফিস ফেস্ট শুরু হলো সল্টলেকের নলবনের ফুড পার্কে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী/ অতিরিক্ত সচিব রশ্নি সেন/পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও পশ্চিমবঙ্গ জীব বৈচিত্র্য পর্ষদের আধিকারিক ডক্টর হিমাদ্রি শেখর দেবনাথ/ মৎস্য দপ্তরের বিশেষ সচিব সুপ্রিয় ঘোষাল এবং বরিষ্ঠ বিশেষ সচিব শশীম বারুই। অনুষ্ঠানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দুদিন ব্যাপী এই বেঙ্গল ফিস ফেস্টের শুভ সূচনা করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা আগামী দিনে মৎস্য চাষ সংক্রান্ত নানান তথ্য তুলে ধরেন । মৎস্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব রশ্নি সেন তার বক্তব্যে বলেন মৎস্য উৎপাদনে আমরা দ্বিতীয় পাশাপাশি সুফল বাংলার বিভিন্ন স্টলে মাছ বিক্রি হচ্ছে, আমাদের লক্ষ্য আগামী দিনে এই আরও বিভিন্ন জায়গায় সুফল বাংলার স্টল বাড়ানো, পাশাপাশি দীঘাতেও সুফল বাংলার স্টলে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যাবে শুধু তাই নয় মৎস্যজীবীদের জন্যও আমরা বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আসছি,যেমন মৎস্যজীবী পরিবারের কেউ যদি প্রয়াত হন তাকে দু লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে জানান সচিব রশ্নি সেন, শ্রীমতী সেন আরও জানান আমরা মৎস্যজীবীদের জন্য FRC কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। পাশাপাশি দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী বলেন যারা মাছ ধরেন ও বিক্রি করেন তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে , আগামী দিনে আমাদের আরও অন্যান্য পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। শুক্রবার ও শনিবার এই দুদিন ব্যাপী মেলায় স্টল এসেছে ছাপান্নটা। আছে বলাগড়ের মাছ ধরার নৌকার স্টল, এছাড়াও আছে চটের তৈরী বিভিন্ন সামগ্রী, প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরী করা বিভিন্ন জিনিসের স্টল, আছে হাতে তৈরী চকলেট, তবে এই মেলায় সবচেয়ে বেশি নজর টেনেছে একদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত ভান্ডার পত্রিকা ও অন্যান্য বই। পাশাপাশি এই মেলায় পাওয়া যাচ্ছে মাছ চাষ সংক্রান্ত নানান ধরনের বই, প্যাকেটজাত বিভিন্ন মাছ; এছাড়াও বড়ো আকারের রই কাতলা ও আমেরিকান রুইও পাওয়া যাচ্ছে এই মেলায়। মূল অনুষ্ঠানের পর বেশ কয়েকটা স্টল ঘুরে দেখেন দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী, আছে মাছের পদের বিভিন্ন খাবার, পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে মেয়েদের ব্যবহারের কিছু সামগ্রী।মেলায় উপস্থিত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের আবদারে রাজ্য মৎস্য উন্নয়ন নিগম থেকে আসা মাছ বিক্রেতাদের সাথে হাসিমুখে পোজ দেন মৎস্য দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব রশ্নি সেন। পাশাপাশি এই মেলায় আছে সাস্থ্য দপ্তরের দুটো স্টল ,সেই স্টলের সামনে থেকে মডেলের সাহায্যে বোঝানো হচ্ছে মশা কামড়ালে কি কি ক্ষতি হয়। অন্য একটা স্টলে দপ্তরের মন্ত্রী বিপ্লব রায় চৌধুরী উপস্থিত হলে ওনাকে ফুল ও উপহার দিয়ে সন্মানিত করা হয়। দুদিন ব্যাপী এই বেঙ্গল ফিস ফেস্টের সমাপ্তি আজ শনিবার।
দু'দিন ব্যাপী বেঙ্গল ফিস ফেস্ট নলবন ফুড পার্কে
0%



















