দিকে দিকে সম্প্রীতির মেল রাখী বন্ধন উৎসব
দাবদাহ লাইভ, বাইজিদ মন্ডল ও সজল দাশগুপ্তঃ ডায়মন্ড হারবার ও শিলিগুড়িঃ আজ পবিত্র রাখি বন্ধন উৎসব। গোটা রাজ্য জুড়ে এই উৎসবে মেতে উঠেছেন সকল মানুষ। একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে এই দিনটিকে পালন করছেন। উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন উৎসব পালন করেছিলেন। তিনি কলকাতা,ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই ও বোনকে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্য। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সকল ধর্মের মধ্যে একত্রিত সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়। এই রাখি বন্ধন উৎসবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পান্নালাল হালদার, ব্লক তৃণমূল কং সভাপতি অরুময় গায়েন, ব্লকের যুব নেতা তথা সরিষা অঞ্চলের অবজারভার শামীম আহমেদ মোল্লা, ব্লকের কৃষাণ সেলের সভাপতি নীতিশ মোদক, মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ মইদুল মোল্লা, শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি হাসিবুল, সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি রফিক, জেলার ছাত্র নেতা সুভ্রজিত,কালীদাস প্রামাণিক,সহ ব্লকের একাধিক নেতৃত্ব। ব্লক সভাপতি অরুময় গায়েন জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেয়নায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে ব্লকের উদ্যোগে সরিষা অঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচি। রাখি বন্ধন উৎসব ভাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। ১১৭নম্বর জাতীয় সড়ক সরিষার রাস্তায় হাজারেরও অধিক পথচারী সকল মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এমন ভূমিকায় খুশি পথ চলতি সকলেই। যুব নেতা শামীম আহমেদ বলেন দুই বছর অতিমারির কারণে অনুষ্ঠানের পরিধি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। এবছর করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে আবারও আনন্দের সঙ্গে এই উৎসব আয়োজন করা হয় বলে জানান। বিধায়ক পান্নালাল হালদার আপামর বাঙালি কে কবি শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহৎ রাখি বন্ধন ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য গর্বের সাথে টিকিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। অপরদিকে, শিলিগুড়িতে রাখী পালনে এক অভিনব ভাবনা যুক্ত হয়। রাখিতে প্রকৃতি রক্ষার র্বাতা। রাখিতেই চারাগাছ রোপন করে প্রকৃতিকে সবুজ রাখার র্বাতা পৌছে দিতে শিলিগুড়ির এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অভিনব প্রচেষ্টা। রাখিবন্ধন উৎসব গোটা দেশের সামনে এক সৌভাতৃত্ব এবং সৌজন্যতার উৎসব। ভাই-বোনের চিরন্তন বন্ধন ও সুরক্ষা প্রদানের উৎসব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাখি তার ধরণ বদলেছে। একটা সময় ছিল যখন রাখি তৈরি হত ফুল দিয়ে। তারপর এল স্পঞ্জের রাখি সঙ্গে রাংতা মোড়া । কিছু সময় পর রাখিতে প্লাস্টিকের জায়গা পেল। তারপর স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে জড়ি সুতো দিয়ে রাখি তৈরির রেওয়াজ হল। এরপর বড় বড় রাখি বদলে ছোট্ট হতে থাকল । সেইসঙ্গে বেশ একটা গয়না গয়না বা অলংকার ভাব। সরু সুতোতেও এল বাহারি চাকচিক্য। দামও চড়ল। এবার সেই রাখিকেও পিছনে ফেলে চলছে প্রকৃতি রক্ষক রাখি। তাই এবারে “রাখির গাছ”তুলে দেওয়া হল পথচলতি সব ধরনের মানুষের হাতে।


























