দত্তকপুত্রের হাতে মৃত মা
দাবদাহ লাইভ, বৈশাখী সাহা, উত্তর ২৪ পরগনাঃ সন্তানের অভাব পূরণ করতে এক শিশু সন্তানকে দত্তক নিয়ে মাতৃস্নেহে বড়ো করে তোলার পর চরম পরিনতি হয় মায়ের। পালিত সন্তানই কেড়ে নেয় মায়ের প্রাণ। এ যেন নৃশংসতার এক নির্মম নিদর্শন হাবরাবাসীর কাছে। ঘটনায় ব্যপক উত্তেজনা পরিলক্ষিত হয় এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার হাবরা থানার অন্তর্গত হিজল পুকুরিয়ার পাড়িয়ালবাগান রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে ঘটনাটি উঠে আসে সংবাদমাধ্যমের পর্দায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাড়িয়ালবাগান রোড সংলগ্ন হাবরা বল খেলার মাঠের পাশে দোতলা বাড়িতে সস্ত্রীক রুবি বিশ্বাসকে নিয়ে বসবাস করতেন জয় গোপাল বিশ্বাস পেশায় ব্যবসায়ী। দম্পতি নিঃসন্তান থাকলেও পরবর্তীতে একটি পুত্র সন্তানকে দত্তক নেন। আদর যত্ন স্নেহ ভালোবাসায় পড়াশুনা শিখিয়ে শিশুপুত্রটিকে বড়ো করে তোলেন। ছেলেবেলা থেকেই পুত্রের সমস্ত আবদার মেটাতেন ওই দম্পতি। তাদের সেই পুত্র অর্থাৎ অয়ন বিশ্বাস বর্তমানে ২২ বছরের একজন যুবক। সব চাহিদা মেটানো সত্বেও অয়ন মাদকাশক্ত হয়ে পড়ে। ফলে যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে দিন গুজরান করতেন বিশ্বাস দম্পতি। বহু বুঝিয়েও নেশা ছাড়াতে ব্যার্থ হন তারা।ফলে প্রায়শই মনমরা হয়ে থাকতে দেখা যেত ৬৫ বছরের বৃদ্ধা রুবি বিশ্বাসকে। অয়নকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় মানুষের পরামর্শ অনুযায়ী নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করান তারা। দীর্ঘদিন যাবত সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু মা বাবা হিসেবে পালিত সন্তানকে কয়েকদিন বাড়িতে নিয়ে এসে নিজেদের কাছে রাখতে মন চাওয়ায় নেশা মুক্তি কেন্দ্র থেকে অয়নকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় ২দিন আগে। পরিবারের অভিযোগ নেশা মুক্তি কেন্দ্রে থেকেও অয়নের কোনও উন্নতি হয়নি। বাড়ি ফিরেই নেশার জন্য মা রুবি বিশ্বাসের কাছে বারংবার অর্থ চায়। ফলে মায়ের সাথে ঝামেলায় জড়ায় অয়ন। গত রবিবারও এর অন্যথা হয়নি। নেশার জন্য অর্থ দাবি করে অয়ন। মা সন্তানকে নেশা করার জন্য অর্থ দিতে অস্বীকার করে। সেখানেই শুরু হয় গন্ডগোল। টাকা না পাওয়ায় অয়ন অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ সহ অশালীন কথাবার্তাও বলে মা’কে। এদিন সন্ধ্যায় অশান্তি চরমে পৌঁছায়। শেষে টাকা না পাওয়ায় রাগের বশবর্তী হয়ে ছুরিকাঘাত করে তাঁর মা রুবি দেবীর গলায়। ফলপ্রসু গলার নালী কেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন রুবি দেবী। অশান্তির পর ক্রন্দনজনিত চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রুবি দেবীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখামাত্র ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে হাবরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় ও পরিবার পরিজনেরা দ্রুততার সঙ্গে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় রুবি দেবীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে বারাসাত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কিন্তু বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রুবি দেবী। পরিবারের অভিযোগ বাড়ির দোতলায় মায়ের এমন পরিণতি ঘটিয়ে, ঘরের দরজা বন্ধ করে সবার অলক্ষে দোতলা থেকে নেমে বাড়ির পিছন দিক থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত অয়ন। গোটা ঘটনার বিবরণ জানিয়ে পরিবার থেকে হাবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রবিবার রাতেই সংহতি এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাবরা থানার পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ধারায় মামলা রুজু করার পাশাপাশি সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে হাবরা থানার পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে বারাসাত আদালতে পেশ করা হলে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃত অয়নকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে হাবরা থানার পুলিশ। তদন্ত সাপেক্ষে রুবি বিশ্বাস হত্যাকান্ডের সকল তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশিত হবে বলে জানায় পুলিশ।দত্তকপুত্রের হাতে মৃত মা
0%

















