টুইন টাওয়ার ধ্বংসের নেপথ্যে পাঁশকুড়ার সেই মৃণাল
দাবদাহ লাইভ, পাঁশকুড়া, অক্ষয় গুছাইতঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাত্র ৯ সেকেন্ডে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নয়ডার টুইন টাওয়ার। গগনচুম্বী এই জোড়া বহুতল ছিল কুতুব মিনারের থেকেও উঁচু।গত এক সপ্তাহে বারবার আলোচনার শীর্ষে এসেছে এই টুইন টাওয়ার। রবিবার এই বহুতল ভাঙার কর্মযজ্ঞও ফিরেছে সকলের মুখে মুখে। বেআইনি এই নির্মাণ ভাঙার কাজে কারিগরি বিদ্যা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বাংলার চেতন দত্তের নাম সকলেই ইতিমধ্যে জেনেছেন। কিন্তু আড়ালে থেকে গেছেন আর এক বাঙালি আইআইটি পড়ুয়া । যিনি গোটা প্রক্রিয়াটার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আগা গোড়া। তিনি হলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার অন্তর্গত লক্ষ্যাকুড়ির চাউল্যাকুড়ি গ্রামের ছেলে মৃণাল ভৌমিক। আইআইটি মাদ্রাজ থেকে সিভিল আর্থক্যুয়েক নিয়ে গবেষণা করেন মৃণাল। নিজের যোগ্যতার জোরে গ্রাম থেকেই নয়ডা পৌঁছেছেন মৃণাল। বরাবরই মুখের মৃদু হাসি দিয়ে সকলের সঙ্গে সুসম্পর্কের বন্ধন গড়ে তুলেছেন বাংলার এই মেধাবী। মাদ্রাজ আইআইটি থেকে চারজনের টিম ছিল এই টুইন টাওয়ার ভাঙার জন্য। সেখানে ছিলেন মৃণালও। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে বিটেক করার পর গেট (GATE) দিয়ে এনআইটি (NIT) রউরকেল্লা থেকে এমটেক করেছেন। এখন আইআইটি মাদ্রাজ থেকে পিএইচডি করছেন। প্রাইম মিনিস্টার রিসার্চ ফেলোশিপের সুবাদে ডাক পেয়েছেন তিনি। টেলিফোনে মৃণাল ভৌমিক বলেন, এই ধরনের একটি বিল্ডিং যার একদিকে ৯ থেকে ১০ মিটারের মধ্যে বসতি আর অন্যদিকে ৪ মিটার দূরেই তেল এবং গ্যাসের পাইপ লাইন যা সারা দিল্লি জুড়ে তেল ও গ্যাস সাপ্লাই হচ্ছে। এত বড় বিল্ডিং ভেঙে পড়লে স্থানীয় মানুষের কী ক্ষতি হবে তার মাপজোকের গুরুদায়িত্ব সামলানো এবং সাফল্যের সঙ্গে তা করা রীতিমত কঠিন। মৃণাল আরও জানান, এটা দলগত কাজ। আইআইটি রুরকি এবং আইআইটি মাদ্রাজের টিম ছিল। আমি ছিলাম মাদ্রাজ টিমের প্রতিনিধি। ভারত বর্ষে এই প্রথম এত উঁচু কোনও বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হল আর তার সাক্ষী থাকতে পেরে গর্ব অনুভাব করছি।
























